‘ভিখারি’ লিখে গুগল সার্চ করলে পাওয়া যাচ্ছে ইমরান খানের ছবি

কয়েকদিন আগে সার্চ ইঞ্জিন গুগলে ‘ইডিয়ট’ লিখে সার্চ করলেই ভেসে আসতো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। একই ঘটনা ঘটছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষেত্রেও। উর্দুতে ‘ভিখারি’ লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যাচ্ছে ইমরান খানের ছবি। এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে গুগল সিইও সুন্দর পিচাইকে।

পাকিস্তানের অ্যাসেম্বলিতে পিচাইকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে বলে একটি রেজুলিশন পাশ করা হয়েছে পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলিতে। রেজুলিউশনে বলা হয়েছে, গুগল সিইওকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কেন ‘ভিখারি’ লিখে গুগলে সার্চ করলেই পাক প্রধানমন্ত্রীর ছবি আসছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের একটি চ্যানেলে ইমরান খানের একটি খবর সম্প্রচারের সময় ওপরে লেখা ছিল ‘BEGGING’. আসলে BREAKING-লেখার বদলে চালিয়ে দেওয়া হয় ওই লেখাটি। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ট্রোল হয় ওই ঘটনাকে ঘিরে।

 

এদিকে, গুগলে ইংরেজিতে ‘idiot’ শব্দটি সার্চ করলেই চলে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। এমন ঘটনা ঘটছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এমনকি ওই ছবির বিষয়ে খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় ওই নামে ছবিটি আপলোড করেছে মার্কিন মুলুকেরই এক ওয়েবসাইট।

মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুগল সিইও-র কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস ওম্যান জো লফগ্রেন জিজ্ঞাসা করেন, ‘সার্চ অপশনটি কিভাবে কাজ করে যে সব সময়ই এমনটি ঘটে?’ জো লফগ্রেন কংগ্রেসের বক্তৃতামঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘ইডিয়ট’ লিখে সার্চ দিয়ে দেখান যে সেখানে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ছবি চলে আসে।

সুন্দর পিচাই, জনপ্রতিনিধিদের সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে, তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। ব্যাখ্যায় তিনি জানান, ২০০টির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ করে গুগলের সার্চ অপশন। এর মধ্যে প্রাসঙ্গিকতা, জনপ্রিয়তা ও অন্যরা কিভাবে সার্চ অপশনটি ব্যবহার করছে, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিটি প্রথমে Babyspittle নামে একটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল। এটি আমেরিকারই একটি ব্লগ ওয়েবসাইট।

খাবার দিতে দেরি করায় ওয়েটারকে গুলি করে হত্যা

রেস্তোরাঁয় গিয়ে স্যান্ডউইচ অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক ব্যক্তি। খাবার আসতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে রেগে যান। রেগে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এক ওয়েটারকে গুলি করে হত্যাই করে ফেলেন তিনি!

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যারিসের পূর্ব দিকে নইজি-লে-গ্রান্ড এলাকার এক রেস্তোরাঁয় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়েটার কিংবা ঘাতক ব্যক্তি কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পরপরই গুলি চালানো সেই ব্যক্তি পালিয়ে যান। পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্যারিসের পুলিশ।

ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাম্বুলেন্স রেস্তোরাঁয় ছুটে যায়। কিন্তু কাঁধে গুলি লাগা সেই ওয়েটারকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৮ বছর বয়সী সেই ওয়েটার।

নিহত ওয়েটারের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, খাবার প্রস্তুত হতে দেরি হওয়ায় অধৈর্য হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে রেগে গিয়ে সেই ওয়েটারের দিকে তাক করে গুলি চালান তিনি।

আকস্মিক এ ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ২৯ বছর বয়সী এক নারী ফরাসি মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এমন ঘটনা দুঃখজনক। মাত্র কয়েক মাস আগেই রেস্তোরাঁটি খোলা হয়েছে। খুবই শান্ত একটি রেস্তোরাঁ এটি। কোনো ঝুটঝামেলাও হতো না এখানে।’

ঘুষ যিনি খান ও দেন উভয়ে অপরাধী: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যিনি ঘুষ খাবেন তিনি কেবল অপরাধী নন, যিনি দেবেন তিনিও অপরাধী। বিষয়টা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিলে এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ হলে অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারব।’ ডেঙ্গু সমস্যা সম্পর্কে তিনি দেশবাসীকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।

আজ রোববার সকালে তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময়কালে প্রদত্ত ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যথাযথভাবে বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজেট দিয়েছি এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছি। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রকল্প অনুযায়ী তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়কে (পিএমও) বিষয়টির ওপর লক্ষ রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমাদের একটা ভালো সেটআপ আছে, তাই এই দপ্তর থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে নজরদারি করা দরকার, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে, আমাদের অর্জনগুলো আমরা ধরে রাখতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিশাল বাজেট পেশ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রাধিকার নিয়ে তাদের ভৌত কাজ বন্যার পরই যাতে শুরু করা যায় সে লক্ষ্যে পেপারওয়ার্ক শেষ করে দ্রুত উন্নয়নকাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশে বন্যা হবে এবং এ দেশের মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যার পরই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের গতি বাড়াতে হবে, যাতে এসব প্রকল্প সঠিক সময়ে সম্পন্ন হয় এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘুষ খাবে সে–ই কেবল অপরাধী নয়, যে দেবে সে–ও অপরাধী। এই বিষয়টা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিলে এবং এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ হলে অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারব।’ এ সময় তাঁর সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উপার্জন অনুযায়ী ট্যাক্স প্রদানের বিষয়টিও লক্ষ রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কে কত ট্যাক্স দিল আর কে কত খরচ করল তারও একটা হিসাব নেওয়া দরকার।’

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি ও বন্যা হয় এবং এটা স্বাভাবিক। তবে, এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে এবং বন্যা মোকাবিলায় আমরা যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি সেটাও বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশে ডেঙ্গু সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আরও সচেতন থাকার এবং এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবার শুধু আমাদের দেশেই নয়, আশপাশের অনেক দেশেই ডেঙ্গুটা দেখা গেছে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে যেমন ফিলিপাইনে মহামারি আকারে দেখা গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিএমও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনগুলোর প্রচেষ্টায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, নিজের ঘরবাড়ি এবং কর্মস্থলের চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিজেকে সচেতন হতে হবে। যাতে কোথাও পানি জমে এই রোগ সৃষ্টিকারী লার্ভা জন্মাতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো এই রোগের প্রকোপ অনেকটা রয়ে গেছে এবং বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সতর্ক হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শোকের মাস এই আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার-পরিজন হারিয়ে এবং শোক ও ব্যথা নিয়ে জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মসিউর রহমান এবং ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পিএমওর এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

হালদা দূষণ : এশিয়ান পেপার মিলের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এশিয়ান পেপার মিলস লিমিটেডকে উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন অধিদফতরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক।  বিষয়টি নিশ্চিত করে আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে গত ১৪ আগস্ট পরিবেশ অধিদফতরের একটি টিম হাটহাজারীর এশিয়ান পেপার মিলস (প্রা.) লিমিটেডের কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। আজ প্রতিষ্ঠানটিকে শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। শুনানি শেষে কারখানাটিকে উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।

asian-paper-2

তিনি আরও জানান, সরেজমিন পরিদর্শনে বাইপাসের মাধ্যমে তরল বর্জ্য অপসারণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শুনানিতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইটিপির ত্রুটি সংশোধন করে সার্বক্ষণিক ও কার্যকরভাবে চালুর পদক্ষেপ নেয়াসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।

এর আগে গত রোববার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এশিয়ান পেপার মিলের ছাড়া ময়লা পানির নমুনা নিয়েছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন।

asian-paper-3

এশিয়ান পেপার মিল যে রাতের আঁধারেই ময়লা পানি ছেড়ে দেয় হালদায়— এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে ইউএনওর সরেজমিন পরিদর্শনে।

দেখা গেছে, ঈদে মানুষের ব্যস্ততার সুযোগে পানি ছেড়ে দেয় এশিয়ান পেপার মিল। সংগৃহীত নমুনা পরিবেশ অধিদফতরে পাঠান ইউএনও রুহুল আমিন।

asian-paper-3

এর আগে গত ৩০ মে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা দূষণের অভিযোগে হাটহাজারীর এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।

ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনদিনের সফরে সোমবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানাবেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জয়শঙ্করের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তার সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া আগামী অক্টোবরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়েও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এটা প্রথম সফর হলেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের গত জুনে তাজিকিস্তানে সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে অমিমাংসিত তিস্তাসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন ড. মোমেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন জয়শঙ্কর।

সূত্র আরও জানায়, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্যই বাংলাদেশ সফর করবেন জয়শঙ্কর। তার সফরে অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ, কানেক্টিভিটি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

সফর শেষে আগামী ২১ আগস্ট নয়াদিল্লি ফিরে যাবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে ২০১৪ সালে সুষমা স্বরাজ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর একই বছরের ২৫ জুন প্রথম বিদেশ সফরে ঢাকায় আসেন। ড. এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে গত জানুয়ারিতে প্রথম বিদেশ সফর করেছেন।

সরকারের মধ্যস্থতায় চামড়া বিক্রি করতে সম্মত আড়তদাররা

#বকেয়া আদায়ে ফের বৈঠক ২২ আগস্ট
#চামড়া নিয়ে টানাটানিতে রফতানিতে ধসের শঙ্কা

সরকারের মধ্যস্থতায় ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে সম্মত হয়েছেন আড়তদাররা। তবে ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের যে বকেয়া পাওনা রয়েছে, সে বিষয়ে সমাধান বের করতে আগামী ২২ আগস্ট ফের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সে বৈঠকে মধ্যস্থতা করবে।

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে চামড়া খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত আজ (গতকাল) থেকেই চামড়া বিক্রি শুরু করা হবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাননীয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মহোদয় এফবিসিসিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ২২ অগাস্ট এফবিসিসিআইয়ের উদ্যেগে এ নিয়ে আলোচনা হবে দুই পক্ষের মধ্যে। সেখান থেকেই ফয়সালা করে দেবে।

বৈঠকে সরকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল সরকারকে বিপদে ফেলতে চামড়া ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করেছে। ফলে চামড়ার বিশাল দরপতন হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রতিবছর কোরবানির সময়ে পাঁচ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হলেও এবার এই কুচক্রী মহলের কারণে ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। তবে এটা বড় ধরনের কোনো ক্ষতি নয়।
কাঁচা চামড়া রফতানি করা হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অবস্থা বুঝেই রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার যদি এখনই রফতানি করার প্রয়োজন মনে করে, তবে রফতানি করবে। এসময় চামড়া নিয়ে বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে বিএনপি চামড়ার পেছনে পড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিদেশে থাকায় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। চামড়াকে গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাত নিয়ে যেন ভবিষ্যতে কেউ বিশৃঙ্খলা না করতে পারে, সেজন্য টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনও সাংবাদিকদের জানান, তারা এখন থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করবেন। তবে কবে থেকে চামড়ার এই বাজার খুলছে, সেই সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনিও জানাননি।
ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধে এফবিসিসিআইয়ের মধ্যস্থতার কথা জানান দেলোয়ার হোসেন। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট ফিনিস লেদার অ্যাসোসিয়েশন ও টানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে আড়তদারদের পাওনা আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, মূল্য বিপর্যয়ের কারণে চামড়া খাতে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকার রফতানি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কোরবানির পশুর চামড়ার ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
বিপুলসংখ্যক এ চামড়া রাস্তায় ফেলে, নদীতে ভাসিয়ে ও মাটির নিচে চাপা দেয়া হয়। কাঁচামাল হিসেবে এসব চামড়া ট্যানারিগুলোতে আসত। নষ্ট চামড়াগুলো যথাসময়ে কেনা সম্ভব হলে বিদেশে রফতানি করে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা আয় হতো। কিন্ত এবার তা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা।
এদিকে চামড়ার বাজারে এ বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। চামড়া মাটি চাপা দেয়ার বিষয়গুলো তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও দমকল বাহিনী আলাদাভাবে তদন্তে নেমেছে। সৈয়দপুরে পশুর চামড়া মাটি চাপার ঘটনা সরেজমিন দেখতে গত বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দমকল বাহিনীর তদন্ত কমিটি। আর ব্যাংকগুলো খতিয়ে দেখবে তাদের দেয়া ঋণের অর্থ ট্যানারি শিল্পের মালিকরা সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন কিনা। কারণ এ বছর ৭শ’ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ দেয়া হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে তারল্য সংকট থাকার কথা নয়।

জানা গেছে, দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে। এ বছর কমপক্ষে এক কোটি ১৮ লাখ পশুর চামড়া কেনা-বেচা হওয়ার কথা। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮২ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ। এছাড়া ছয় হাজার ৫৬৩টি অন্য পশু। পোস্তার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিএইচএসএমএর হিসাব মতে ৩০ শতাংশ চামড়া এ বছর নষ্ট হয়েছে। এর অর্ধেকই গরুর চামড়া। একটি গরুর চামড়া (গড়ে ১৮ বর্গফুট) বিদেশে রফতানি করে আয় হয় সর্বনি¤œ ২১৬০ টাকা।
এবার নষ্ট হওয়া গরুর চামড়া থেকে রফতানি আয় কমবে প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা। এছাড়া ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০০ টাকার বেশি রফতানি মূল্য রয়েছে। সে হিসাবে ছাগলের চামড়া থেকে আয় কমবে কমপক্ষে দেড়শ’ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, গরু-ছাগলের চামড়া নষ্ট হওয়ায় সব মিলে কমপক্ষে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার রফতানি আয় কমে যেতে পারে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি খাতে আয় নয় হাজার ২৯১ কোটি টাকা (১০৯.৩০ কোটি মার্কিন ডলার)। ধারণা করা হচ্ছে, কাঁচামাল সংকটের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, চামড়া জাতীয় সম্পদ। এটি মাটিতে পুঁতে ফেলা, রাস্তায় বা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া গর্হিত কাজ। এ ধরনের কাজ যারা করেছেন, তারা ঠিক করেননি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছি। নিশ্চয়ই সামনে এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। কাঁচা চামড়া রফতানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে ওয়েট ব্লু রফতানি এবং পরে লবণযুক্ত চামড়া রফতানির অনুমোদন দেয়া হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন ইনকিলাবকে জানান, আমাদের হিসাবে এবার কোরবানির ঈদে এক কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানির হওয়ার কথা। সে হিসাবে সমসংখ্যক চামড়া আড়তদারদের কাছে আসার কথা। কিন্ত ৩০ শতাংশ চামড়া কম আসছে। এসব চামড়া নানাভাবে নষ্ট করা হয়েছে। ফলে এবার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা আছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে টাকা নেই। যে কারণে চামড়া আড়ত পর্যন্ত আনার পরও অনেকে কিনতে পারেননি।

জানা গেছে, চামড়া দেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি আয়ের খাত। ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতে ৫০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কিন্ত চামড়া রপ্তানি কমছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ১০২ কোটি ডলার আয় করে, যা আগের বছরের চেয়ে ছয় শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাতে রপ্তানি আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলারের বেশি।

ট্যানারিমালিকেরা জানান, ২০১৭ সালের এপ্রিলে হঠাৎ হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর সাভারে উৎপাদনে যেতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেক ট্যানারি এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। এ কারণে ভারত ও জাপানের অনেক ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে। মাইজদী ট্যানারির পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, এখন চীনারাই আমাদের একমাত্র ক্রেতা। তারাও সুযোগ নিয়ে দাম এত কম বলছে যে তাতে উৎপাদন খরচও ওঠে না। রপ্তানি না হওয়ায় কারখানায় চামড়ার স্তূপ জমে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ঈদুল আজহার পর আমি ৪৫ হাজার চামড়া কিনেছিলাম, যার অর্ধেক এখনো রয়ে গেছে।

অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চামড়ায় রপ্তানির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন, চামড়া শিল্পনগরীর দুর্বলতাকে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চামড়ায় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিশ্চিত করতে হবে পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি’র তথ্যমতে, জুতা ছাড়া চামড়া খাতের রপ্তানি কমার ধারাবাহিকতা বিদায়ী অর্থবছরেও দেখা যায়। এরমধ্যে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার রপ্তানি কমেছে আগের বছরের তুলনায় ১০.০৯ শতাংশ। আর চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি কমেছে ২৬.৫৮ শতাংশ। রপ্তানি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে ধরনের প্রণোদনা এবং অবকাঠামো সহায়তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এই উৎপাদন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী না হলে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যাবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।