আইএসপিএবির চার প্রস্তাব

Print Friendly, PDF & Email

স্বল্প সময়ের নোটিস বা নোটিস ছাড়াই বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ঝুলন্ত কেবল অপসারণ করায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চারটি প্রস্তাব টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে দিয়েছে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।

রোববার বিটিআরসিকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদুল হক বলেন, কয়েক বছর ধরে রাজধানীর উত্তরা, মীরপুর, মহাখালী, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় বার বার স্বল্প সময়ের নোটিসে দিয়ে অথবা নোটিস ছাড়াই ডেসকো ও ডিপিডিসি তাদের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ঝুলন্ত তার অপসারণ করছে।

“এর ফলে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার ফাইবার অপটিক কেবল বিনষ্ট হচ্ছে। ওভারহেড কেবল ছাড়া অন্য কোনো উপায় না থাকায় আইএসপিগুলো নিতান্ত বাধ্য হয়ে আবার একইভাবে পুনঃসংযোগ দিচ্ছে।”

এই সমস্যার সমাধান না হলে দেশের কর্পোরেট হাউস, ব্যাংক, বীমা, শিক্ষা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডাটা কানেকটিভিটি, আর্থিক লেনদেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেনদেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান ইমদাদুল হক।

আইএসপিএবির ৪ প্রস্তাব

>> বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ওভারহেড কেবল ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। উক্ত কমিটির সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কোনো কেবল কাটা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট ও ডেটা কানেকটিভিটি (সংযোগ) বন্ধ থাকবে এবং এর দায়দায়িত্ব ডেসকো ও ডিপিডিসিকে নিতে হবে।

>> বেসরকারি দুই ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন (এনটিটিএন) প্রতিষ্ঠান টেলিযোগাযোগ খাতের চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ন্যূনতম আরো তিনটি অপারেটরকে এই লাইসেন্স অবিলম্বে দিতে হবে।

>> ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটসহ সব বিভাগীয়-জেলা শহরে এনটিটিএনদের এলডিপির সংখ্যা বাড়াতে হবে।

>> এনটিটিএনের কোর প্রতি মূল্য ক্রমান্বয়ে বেড়ে মিটার প্রতি মাসিক ২ টাকা থেকে ৭ টাকা হারে পৌঁছেছে। ইন্টারনেটের মূল্য কয়েক ধাপে কমলেও এনটিটিএনের মূল্য প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এই উচ্চমূল্য কমাতে হবে ও সারা দেশে একদামে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইমদাদুল হক বলেন, “এনটিটিএন অপারেটরদের এলডিপি পয়েন্টগুলো বর্তমানে যেভাবে আছে, তাতে লাস্টমাইলে ওভারহেড কেবল (ঝুলন্ত তার) অপরিহার্য। এলডিপির স্বল্পতা ও পরিকল্পনাগত ক্রটির কারণে ঝুলন্ত তার থেকে আশু মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।

“কিন্তু এই বাস্তবতা আমলে না নিয়ে ওভারহেড কেবল সংক্রান্ত সমস্যার সমস্ত দায়ভার ডেসকো ও ডিপিডিসি, এনটিটিএন অপারেটরদের পরিবর্তে আইএসপি অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে আসছে।”

তিনি জানান, ওভারহেড কেবলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উপসচিবকে প্রধান করে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়।

ডেসকো, ডিপিডিসি, বিটিআরসি, সামিট কমিউনিকেশন, ফাইবার অ্যাট হোম, বিটিসিএল, কোয়াব ও আইএসপিএবি প্রতিনিধিরা এই কমিটির সদস্য। কমিটি টেকনিক্যাল সমস্যা মনিটরিং এবং যাচাই-বাছাই করে বিগত কয়েক বছর ধরে ঝুলন্ত তার অপসারণ করে আসছে।

মন্ত্রণালয়ের এই টেকনিক্যাল কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ডেসকো গত এক বছর ধরে খেয়ালখুশি মতো ওভারহেড কেবল অপসারণ করছে অভিযোগ করে ইমদাদুল হক বলেন, “এ কমিটির কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েও আজ কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”