ফ্রি ভিসার নামে বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ

Print Friendly, PDF & Email

রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণায় ক্ষতির মুখে শ্রমবাজার

বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে শ্রমিক পাঠাচ্ছে জনশক্তি রফতানির সঙ্গে জড়িত একাধিক চক্র। ‘ফ্রি ভিসা’ নাম দিয়ে পাঠানো হলেও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও নিয়োগপত্র না থাকায় সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাচ্ছেন না এসব শ্রমিক। ফলে প্রবাসজীবনের শুরুতেই বিপদে পড়তে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৮ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী কর্মী বিদেশে গেছেন। তাদের বড় একটি অংশই ‘ফ্রি ভিসায়’ সৌদি আরবে গেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাননি তারা। এমন ঘটনা ঘটেছে এর আগেও।

এ অবস্থায় যারা বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের যাওয়ার আগে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট ও নিয়োগপত্র যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ফ্রি ভিসা বলে কোনো ভিসা নেই। এমনকি স্টুডেন্ট ভিসা, ট্রাভেল ভিসা, হজ ভিসায়ও বিদেশে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।

এসব ভিসায় চাকরির জন্য বিদেশে গেলে প্রতারণার শিকার হতে হবে। যদিও বিদেশগামী শ্রমিকের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। তাই মানব পাচার ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে বিদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে।

ফ্রি ভিসার বিষয়ে সতর্ক করে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। বিএমইটির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্রি ভিসা বলে কোনো ভিসা নেই। প্রকৃতপক্ষে ফ্রি ভিসা একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা। তথাকথিত ফ্রি ভিসায় বিদেশে গিয়ে সে দেশে নিজে নিজে কাজ জোগাড় করে নেয়া অসম্ভব। অনেকেই এ ধরনের মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত হচ্ছেন।

এ কারণে চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে ফ্রি ভিসায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ফ্রি ভিসার নামে কোনো কর্মীকে বিদেশে পাঠানো হলে দায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১ ধারা মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএমইটির মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা  বলেন, সরকার ফ্রি ভিসার নামে বিদেশে পাড়ি না দেয়ার জন্য এলাকাভিত্তিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিদেশে চাকরির নামে কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়েন, সে ব্যাপারেও জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এর পরও দালালদের প্রচারণায় অনেকেই এটিকে অনুকূল মনে করে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট কাজের চুক্তির মাধ্যমে ভিসা ইস্যু হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার সব খরচ নিয়োগদানকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করে। ফ্রি ভিসা বলে কিছু না থাকলেও মূলত কিছু অসাধু বাংলাদেশী স্থানীয়দের যোগসাজশে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা পদ্ধতি চালু করেছে।

এতে সাধারণ শ্রমিক তার সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন। ফ্রি ভিসার নামে এ প্রতারণা চলছে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোয়। অবৈধ এ ফ্রি ভিসা বন্ধে ২০১৫ সালে আইন করার উদ্যোগ নেয় বাহরাইন।