মনঃসংযোগের ক্ষমতা কমাচ্ছে স্মার্টফোন

Print Friendly, PDF & Email

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, স্মার্টফোন ছাড়া চলার কথা এখন আমরা ভাবতেই পারি না। দিনের মূল্যবান অন্তত ৩-৩টি ঘণ্টা আমাদের ব্যয় হচ্ছে স্মার্টফোনের পেছনে। স্মার্টফোনের উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতাও রয়েছে ভূরি ভূরি। এ রকমই এক বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, আমাদের মনঃসংযোগের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে স্মার্টফোন। খবর সায়েন্স ডেইলি।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবোশ ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনফরমেশন সায়েন্সের কগনিশন অ্যান্ড টেকনোলজি রিসার্চ গ্রুপের দুই গবেষক ড. ড্যানিয়েল লা রুয়ে ও ডগলাস পেরি এ গবেষণা কার্যক্রম চালান।

গবেষণা নিবন্ধে তারা বলেন, ‘আগেকার চেয়ে অনেক উন্নত ও দক্ষ ডিজিটাল ডিভাইস হিসেবে আমাদের জীবনের অনেক কিছুকেই আরো অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর করে তুলেছে স্মার্টফোন। এর সপক্ষে অনেক যুক্তি-প্রমাণও রয়েছে। কিন্তু বারবার আমাদের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে তোলার মাধ্যমে এগুলো আমাদের মনঃসংযোগের সক্ষমতাকেও কমিয়ে দিচ্ছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের সবাই এখন ডিজিটাল নাগরিক। এরা সবাই চারপাশের ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর বিকাশ ও উল্লম্ফন দেখতে দেখতে বড় হয়েছেন। একই সঙ্গে এ পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের তারা এমনভাবে মানিয়ে নিয়েছেন; দেখে মনে হবে, তারা সবাই এখন মিডিয়া-মাল্টিটাস্কিংয়ে (একসঙ্গে কয়েকটি মাধ্যমে ব্যস্ত থাকা) ব্যস্ত। এজন্য ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত আপডেটেড ও সংযুক্ত থাকতে গিয়ে একের পর এক মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে।

গবেষকরা আরো বলেন, ‘আমাদেরটিসহ গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংগঠিত আরো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালেও সারাক্ষণ স্মার্টফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকছে। এ কারণে শিক্ষার্থীর ক্ষতি হচ্ছে দুভাবে। প্রথমত. মাল্টিটাস্কিংয়ে ব্যস্ত থাকায় আমাদের প্রাথমিক কাজটাই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত পারফরম্যান্সও খারাপ হচ্ছে বলে আগেও বেশকিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।

দ্বিতীয়ত. স্মার্টফোনের কারণে শিক্ষার্থীদের কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মনঃসংযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা কমছে। স্বল্প সময়ের বিরতিতেই তাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রবেশযোগ্য মাধ্যমগুলোয় একের পর এক অবস্থান বদলাতে হচ্ছে। ফলে ক্লাসে শিক্ষকের বক্তব্যে মনঃসংযোগ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা