রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের রাজনৈতিক অর্থনীতি

Print Friendly, PDF & Email

রোহিঙ্গাদের প্রতি জাতিগত নিপীড়নের বিষয়টি এখন আর আলোচনার বিষয় নয়, প্রতিরোধের বিষয়। বিশ্বের সবাই জেনে গেছে, রোহিঙ্গারা মুসলমান বলেই তাদের হত্যা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বৌদ্ধরা মুসলমানদের পছন্দ করে না বহুকাল আগে থেকেই। কিন্তু অপছন্দের কারণে ধরে ধরে খুন করার ঘটনা কখনো ঘটেনি। এখন যেমন বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ছাই করে, হত্যা করে, তাড়িয়ে দিয়ে গ্রামকে গ্রাম জনমানবশূন্য করা হচ্ছে, তেমনটি কখনো করা হয়নি। সন্দেহ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে যে, বিষয়টি বৌদ্ধ ও মুসলমানদের ধর্মীয় কোনো দ্বন্দ্ব নয়। অন্য কোনো বিশেষ আর্থরাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে।

অনেক আগে থেকেই রোহিঙ্গা বিতাড়ন শুরু হয়েছে। ভাবতে হবে যে, অনেক আগে থেকেই ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনা করেই রাখাইন রাজ্য বেদখল করার চিন্তা করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্য অনেক দিক থেকেই আকর্ষণীয়। বিশাল বিপুল অনাঘ্রাত প্রাকৃতিক সম্পদের আকর। মিয়ানমার ব্যবহার করার ক্ষমতা রাখে না। চীনারা অনেক আগেই নজর দিয়েছে। তবে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই চীনারা রাখাইন রাজ্যে নজর দিয়েছে, এমনটি মনে করা ভুল হবে। চীনাদের মূল নজর বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের মাধ্যমেও বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তার করা যেতে পারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রবল বাধা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনারা তাই বলে হাল ছাড়েনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনাদের দ্বিতীয় সম্ভাব্য ক্ষেত্র মিয়ানমার। মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের রেলপথ যোগাযোগ হবেই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সাথেও। এসবের সঙ্গে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সম্পর্ক কী?

রেহিঙ্গা ল্যান্ডে যদি চীনারা বিশাল বিনিয়োগ করে, তবে সেখানে তাদের সামরিক ঘাঁটিও তৈরি হবে। সামরিক ঘাঁটির জন্য অনেক অহল্যা ভূমির প্রয়োজন হবে। যেহেতু রোহিঙ্গারা সেখানে বসবাস করে, সেহেতু তাদের বসতিতে তো আর সামরিক ঘাঁটি করা যায় না। তাছাড়া চীনারা মুসলমানদের খুবই সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের দেশের মুসলমানরা যথেষ্ট ভয়ে ভয়ে থাকে। কিন্তু ওই কারণে চীনাদের প্রবৃদ্ধি কমে না, বরং বাড়ে। চীন দেশের সংবিধানে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। তার পরও চীনে মুসলমানরা সংখ্যালঘুর মতো বাস করে। কোনো মুসলমান দেশ আক্রান্ত হলে চীনারা সেখানে যায় না। অনুরোধ, উপরোধ করলেও যায় না। মুসলমানের জন্য একজন চীনাও জীবন দেবে না। এটা তাদের অতি প্রাচীন নীতি। তারা কখনো এ নীতির বরখেলাপ করেনি। কিন্তু তাই বলে কখনো জাতিগত নিপীড়নও করেনি। এই প্রথমবার চীনারা মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়নকে সমর্থন করেছে। কাহিনী কী?

মধ্যযুগের প্রথম দিকে ধর্ম বাহিনীর অনুসরণে সামরিক বাহিনী যেত। দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্কেন্টাইল ক্যাপিটালিজমের আমলে বাণিজ্য বাহিনীর অনুসরণে সামরিক বাহিনী যেত। এখন পুঁজির অনুসরণে সামরিক বাহিনী যায়। আফ্রিকায় চীনা পুঁজিকে অনুসরণ করে সামরিক বাহিনী গেছে, অস্থায়ী ঘাঁটিও গেড়েছে। মিয়ানমারে তারা শিল্প বাণিজ্যিক বসতি তৈরি করবে এবং স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিও গাড়বে। যেহেতু বঙ্গোপসাগরে তারা ভারত-মার্কিনিদের দ্বারা প্রতিহত হচ্ছে বারবার, তাই রাখাইন রাজ্য বেদখল করে স্থায়ীভাবে বসে ভারত-মার্কিনিদের বিরোধিতাকে প্রতিহত করতে চায়।

অনেকেই সন্দেহ করছেন যে, রাখাইন রাজ্যে চীনারা পারমাণবিক ঘাঁটি তৈরি করবে। সন্দেহ হয়তো অমূলক নয়। কেননা কেউ কেউ বলেছেন, এখানে উচ্চমূল্যের তেজস্ক্রিয় পদার্থের খনি আছে। অল্প আয়াসে ওইসব মূল্যবান খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা যাবে। মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের ‘পাহাড় ব্যবধান’ আছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই চীনাদের ওই এলাকা দিয়েছে, যাতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ হলে মূল ভূখণ্ড ধ্বংস না হয়। কিন্তু গোপন ঘাঁটি জনবহুল এলাকায় তো করা যায় না। জাতিগত নিপীড়ন করেই জনমানবশূন্য করতে হবে। তা-ই করা হচ্ছে। এবং তাদের এ কাজে ভারত, চীন, রাশিয়া সমর্থন দিচ্ছে। আর সমর্থন দিচ্ছে আর্থসাম্রাজ্যবাদ ইহুদিদের প্ররোচনায়। হয়তো অনেকেই জানেন না যে, চীনাদের সঙ্গে ইহুদিদের খুব ভালো সম্পর্ক।

চীনারা বিশ্বব্যাপী তাদের সব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধাক্কা খাচ্ছে। তাদের ধারণা হয়েছে, মিয়ানমারে বিনিয়োগ করলে মার্কিন মুল্লুক থেকে ধাক্কা খাবে না। আর ইহুদি সমর্থনের কারণে মার্কিন প্রশাসন তাদের জন্য স্পর্শকাতর হলেও নীরবতা পালন করবে। যদিও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কখনো চীনাদের বঙ্গোপসাগরে ঢুকতে না দেয়ার পুরনো নীতিই ধরে আছে।

সমস্যা হতে পারে ভারতের জন্য। তারা মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানকে ভারতও অপছন্দ করে। তবে চীনারা তাদের জন্য যে বড় হুমকি, সেটা হূদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারে চীনাদের সামরিক ঘাঁটি ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি হবে। যদি পারমাণবিক ঘাঁটি হয় তাহলে ভারতের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। পরিণতিতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা ভারতের তথাকথিত রাজনীতিকরা কখনো বুঝতে পারবেন না।

বিশ্ববিবেক অন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গা নিশ্চিহ্ন করার দায়িত্ব পালন করছে। জানে যে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আসবে না। অনেক আগে থেকেই জাতিসংঘ রোহিঙ্গাবিরোধী। এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবে না বলে কিঞ্চিত্ আহা, উহু করছে। কফি আনান যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, তা মিয়ানমার প্রথমেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এত সাহস পায় কোত্থেকে?

খুব বড় ধরনের পরিকল্পনা করে, আটঘাট বেঁধেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলমান জনসংখ্যা নির্মূলের বিবেকবর্জিত কাজে নেমেছে। শুধু কথায় তাদের নিবৃত্ত করা যাবে না। চীন, রাশিয়া, ভারত যেহেতু জান্তাকে সহযোগিতা করছে, তাই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভয়ও নেই। পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুসলমানসমাজকে উদ্যোগ নিতে হবে। মুসলমানসমাজ যদি সমবেতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে বেশ কাজ হবে। এ দায়িত্ব নিতে হবে সৌদি আরবকে। তার অধীনে বিশাল সামরিক বাহিনী বর্তমান। যদিও এখন পর্যন্ত ওই সামরিক বাহিনী কেতাবি, তবে যথার্থ উদ্যোগ নিলে ক্ষণমাত্র সময়ে ওই সামরিক বাহিনী বাস্তবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। এমনকি সম্মিলিত অভিযানে ইরানও যোগ দিতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছেন। তিনি মানুষের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। বিশ্বদরবারে মানবতার অনুকূলে রায় প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু সবার কাছ থেকে সমান সাড়া পাননি। ভূরাজনৈতিক কারণেই বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। শ্রেণীস্বার্থ এতই অমানবিক যে, গণহত্যার পক্ষে দাঁড়াতে লজ্জাও করে না। পুঁজিবাদীদের লজ্জা বলে কিছু নেই। মার্ক্স বলেছেন, মুনাফা একটা বিশেষ সীমা অতিক্রম করলে পুঁজি উলঙ্গ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুঁজি উলঙ্গ হয় কীভাবে? আসলে ওই মানুষ নামধারী নিপীড়করাই উলঙ্গ হয়। চীনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা বৈদেশিক বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চীনের পুঁজির স্ফীতি ঘটেছে। স্ফীতির একটা গর্ভযন্ত্রণা আছে। খালাস না হওয়া পর্যন্ত গর্ভযন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। অনেক সময় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়। চীন পুঁজস্ফীিতির কারণে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার সমর্থন কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকানো এবং পারমাণবিক ঘাঁটির কারণে। পারমাণবিক ঘাঁটি হলে চীন-রাশিয়া যৌথভাবেই তা করবে। মিয়ানমারে পারমাণবিক ঘাঁটি হলে পাকিস্তানের লাভ হবে। ভারতের পারমাণবিক হুমকির কারণে তারা খুব ভয়ে ভয়ে আছে।

চীন তাদের সমর্থন দেয়। কিন্তু পারমাণবিক আঘাত এলে বাঁচাতে পারবে না। ভারতের চারপাশে যদি পারমাণবিক ঘাঁটি বানানো যায় তাহলে ভারত জব্দ হবে। এ ধরনের একটা অশুভ চিন্তা করেই ভারতের চারপাশে পারমাণবিক ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে চীন। বেশ খানিকটা অগ্রসরও হয়েছে। রাশিয়া বুঝতেই পারছে না যে, চীনের প্রচেষ্টা সফল হলে পরিণাম কী ভয়াবহ হতে পারে। ভারত যদি ক্ষতির শিকার হলে রাশিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এখন ওই ক্ষতি কেউ চোখে দেখতে পাবে না। আপনারা কি চিন্তা করে দেখবেন, কেন ইহুদি ও পাকিস্তানিরা মিয়ানমারে গোপনীয় কাজ করছে?

মিয়ানমারের বৌদ্ধদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে— এমনটা কামনা করা অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বলপ্রয়োগের প্রয়োজন আছে। কিন্তু বাংলাদেশ বলপ্রয়োগের ক্ষমতা রাখে না। যুদ্ধ হলে উন্নয়ন ধারা বিকৃত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করবে না। বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের না খাওয়াতে পারে, তাহলে হয়তো একসময় তারা না খেয়ে মরবে। কিন্তু তাদের জন্য বাংলাদেশ যুদ্ধ করবে না।

একমাত্র বৌদ্ধদের শুভবুদ্ধির উদয় হলেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, বৌদ্ধরা তাদের বিশ্বপ্রেম ভুলে হিংস্র হয়ে উঠেছে। তাদের কল্যাণরূপ আর সহজে দেখা যাবে না। যারা বৌদ্ধসমাজ সম্পর্কে লেখাপড়া করেছেন, তারা হয়তো জানেন যে, বৌদ্ধরা সহজে পরিবর্তন হয় না। বৌদ্ধসমাজে পরিবর্তন আসে যুগে যুগে। কোমল প্রাণের মানুষগুলো হিংস্র হয়েছে অনেক দিনের ব্যবধানে। তাদের আবার কোমলমতির মানুষ হতে অনেক দিন লাগবে।

যেহেতু ভারতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি, তাই তাদেরই উচিত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা। বিশাল বিশাল ব্যক্তিত্বের রাজনীতিকের জন্ম হয়েছিল ভারতে। তাদের কারণেই ভারতে এত উন্নতি। কিন্তু তাদের পরের প্রজন্ম রাজসিক নয়। এরা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নয়। তাই এদের পক্ষে প্রকৃত কল্যাণকর কিছুই করা সম্ভব নয়। ভরসা কেবল সাধারণ জনগণ। তারা যদি বুঝতে পারে তাহলে প্রবীণ রাজনীতিকদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আনতে পারবে। এ তরুণরাই হয়তো ভারতকে বিপদ থেকে বাঁচাতে পারবে। বিশ্বরাজনীতিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হলে ভারতীয় জনসাধারণের উচিত হবে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেয়া। কেবল অযোগ্যদের প্রতি আনুগত্য না দেখিয়ে বহুমুখী শিক্ষায় শিক্ষিতদের নেতা বানানো।

বর্তমান রাজনীতির বড় আসনে যারা বসে আছেন, তারা হয়তো দেশ বাঁচাতে পারবেন না। বহুমুখী শিক্ষিত রাজনীতিক থাকলে ঠিকই বুঝতে পারতেন মিয়ানমারে কী ঘটছে। এটি কতদূর যাবে। ভারত উদ্যোগ না নিলে চীনাদের আগমন ও ঘাঁটি গাড়া কেউ বন্ধ করতে পারবে না। তাই রোহিঙ্গা সমস্যায় ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে। তবে এটি নিশ্চিত করে বলা যায়, ভারত যে অবস্থান নিয়েছে, সেখানেই থাকবে। তারা মিয়ানমারকে থামাবে না, ধমকও দেবে না। কী হবে অবশেষে? উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতিকদের কারণে ভারতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। ভারতীয় ঐক্য দুর্বল হবে। বাদবাকি দৈবের হাতে।

সমস্যা তৈরি হয়েছে ইংরেজদের কারণে। সমাধানের সূত্র সেখানেই। ১৯৪৭-এ যে সীমারেখা তৈরি করা হয়েছিল, সেখানেই বড় ভুল। ম্যাপ গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেকথা এখন জানাজানি হয়ে গেছে। সেই আদি ম্যাপের আদলে সীমারেখা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। মিয়ানমার আর বাংলাদেশের মধ্যকার সীমারেখায় মারাত্মক ভুল হয়েছে। ইংরেজরা ইচ্ছে করেই রাখাইন রাজ্যকে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করেনি। কিন্তু তারা জানত যে, রোহিঙ্গা মুসলমানরা পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গেই থাকতে চায়।  অতীতে একসময় রাখাইন রাজ্য বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। মোগল আমলের শেষের দিকে রাখাইন রাজ্য তারা দখল করে দিল্লির অসুস্থ রাজনীতির কারণে।

রোহিঙ্গারা তখন থেকেই বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করে এবং সভ্যতার আলো তাদের স্পর্শ করে না। ইংরেজরা বিষয়টি বুঝেছিল কিন্তু বার্মাকে তারা অতিরিক্ত সুযোগ দিতে চেয়েছিল। এমনকি রেঙ্গুনকেও বাংলাদেশের সঙ্গে দিতে চেয়েছিল তাদেরই কেউ কেউ। সেই ভুল যদি সংশোধন হয়, তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে।

নতুবা যে অত্যাচার চলছে, তা অব্যাহতভাবে চলতেই থাকবে শেষ রোহিঙ্গার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত। মানবাধিকার কর্মীদের উচিত ইংরেজদের বিরুদ্ধে মামলা করা। সেই মামলায় তারা হেরে যাবে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক ভূগোল তৈরি হবে। এটাই হবে প্রকৃত সমাধান।

 

লেখক: শিক্ষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়