মজার মজার ইশকুল

Print Friendly, PDF & Email

বিশ্বে কিছু আদর্শ স্কুল রয়েছে। সাধারণ পাঠদানের বাইরে নানাভাবে এসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। কোথাও শিক্ষার্থীদের পুরো স্কুল নদীতে ভেসে বেড়ায়, কোনো স্কুলে নেই বইখাতা সামলানোর ঝক্কি, আবার কোনো স্কুলে হয়তো শিক্ষক-ই নেই, যে যার মতো যা খুশি করছে।

কোনো কোনো শিক্ষার্থীর আবার বিশ্বজোড়া একটি পাঠশালা। এরপরও এসব স্কুল নজর কেড়েছে পুরো বিশ্বের। কোনো কোনো স্কুল পেয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এমনই কয়েকটি স্কুলের গল্প তুলে ধরা হলো:

নৌকা স্কুলে হাস্যোজ্জ্বল শিক্ষার্থীরা। ছবি: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে নেওয়া

নৌকা স্কুল
বাংলাদেশে ‘নৌকা স্কুল’ পদ্ধতিতে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’। প্রতিষ্ঠানটি ভাসমান স্কুল, পাঠাগার, ল্যাপটপ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্যাপ্রবণ এলাকার ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়েছে, যাদের বেশির ভাগই সুবিধাবঞ্চিত। এই স্কুলে সৌরচালিত বিদ্যুৎও রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যাপ্রবণ এলাকায় বছরজুড়ে শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত করে হাজারো মানুষের জীবন বদলে দেওয়ায় ভারতে পুরস্কৃত হয়েছেন ‘নৌকা স্কুলের’ উদ্ভাবক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান। তিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘শ্রী সত্য সাঁই অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান এক্সেলেন্স-২০১৬’ পেয়েছেন।

প্রতীকী ছবি: এএফপি

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি
সবখানেই এখন প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে চলেছে। পাঠদানের পদ্ধতিতেও পড়েছে এর প্রভাব। যুক্তরাজ্যের সেভেনোয়াস্ক স্কুলে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি বা ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। এই স্কুলে শিল্প-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূগোল বিষয়ে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠ দেওয়া হয়।

 

গ্রিন স্কুলের বাঁশের ছাউনির নিচে শিক্ষার্থীরা। ছবি: গ্রিন স্কুলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

গ্রিন স্কুল
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অবস্থিত এই গ্রিন বা সবুজ স্কুল। এখানে পড়ানোর উপকরণসহ স্কুলের অবকাঠামো সবকিছুই বাঁশ দিয়ে তৈরি। নার্সারি থেকে মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়ানো হয়। পরিবেশগত দিকের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীদের পড়োনো হয়। এই স্কুলের তিনটি মূল নীতি হলো—স্থানীয় বলে ভাবা, পরিবেশের দিকে নজর দেওয়া ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা।

 

স্কুলে মেরি-গো-রাউন্ড খেলে ব্যাটারি চার্জ করছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: এমপাওয়ার প্লেগ্রাউন্ডসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

অন্ধকারের আলো
ঘানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এসব অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে প্রায় বঞ্চিত। দিনের বেলা স্কুল থেকে ফিরে বাড়িতে আর অন্ধকারে পড়ার উপায় থাকে না তাদের। এ কারণে ‘এমপাওয়ার প্লেগ্রাউন্ডস’ নামে একটি স্কুল চালু হয়েছে। এই স্কুলের মাঠে রয়েছে একটি মেরি-গো-রাউন্ডসের রাইড। এই রাইডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি ব্যাটারি। দিনের বেলায় শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ হলো স্কুলে এসে যতক্ষণ খুশি মেরি-গো-রাউন্ড খেলা। আর এতে ওই ব্যাটারি চার্জ হবে। এই ব্যাটারি দিয়ে রাতের বেলা স্কুলে বাতি জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। ব্যাটারি একবার চার্জ হলে ৪০ ঘণ্টা একটা বাতি জ্বলতে পারে।

 

প্রতীকী ছবি: এএফপি

কাগজবিহীন স্কুল
কাগজ ও টেবিলবিহীন স্কুলের কথা ভাবা যায়! না গেলেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্কুলে এখন কাগজ ও টেবিলের ব্যবহার তুলে দিয়েছে। কলম-কাগজের বদলে জায়গা হয়েছে আইপ্যাড ও কম্পিউটারের। শিক্ষার্থীরা এখানে গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে পড়া উপস্থাপন করে। এসব স্কুলে চক বোর্ডের পরিবর্তে স্মার্ট বোর্ড ব্যবহার করা হয়।

 

স্কুলে যে যার মতো বসে পড়ছে শিশুরা। ছবি: স্টিভ জবস স্কুলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

ইচ্ছেমতো পড়ো
নেদারল্যান্ডসের স্টিভ জবস স্কুলে নির্দিষ্ট কিছু পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। শিশু-কিশোরেরা এখানে যে যার মতো বিষয় নির্বাচন করে পড়তে পারে। কেউ বসে, কেউ শুয়ে আবার কেউবা ঘুরতে ঘুরতে পড়তে পারে এখানে। বই পড়তে না চাইলেও সমস্যা নেই। সহপাঠীরা মিলে হেলদোল করে গল্পে মশগুল বা খেলতেও পারে তারা। তবে এই স্কুলে সব শিক্ষার্থীকেই একটি করে আইপ্যাড দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে জোহানেসবার্গে এ রকম আরেকটি স্কুল চালু করা হয়েছে।

 

ইগালিয়া প্রাকস্কুলে খেলছে শিশুরা। ছবি: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে নেওয়া

ছেলেমেয়ে নেই ভেদাভেদ
সুইডেনের স্টকহোমে ইগালিয়া প্রিস্কুলে কখনোই ‘হি’ ও ‘শি’ শব্দটি শেখানো হয় না। এই স্কুলে ছেলেরা পুতুল নিয়ে খেলে আর মেয়েরা গাড়ি। শিশুদের বইপত্রে লিঙ্গবৈষম্যমূলক কোনো বিষয় নেই। সতর্কতার সঙ্গে বই থেকে সেগুলো বাদ দেওয়া হয় এই স্কুলে।

 

রোবট শিক্ষক পিপারের সঙ্গে কথা বলছে এক শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপি

রোবট যেখানে শিক্ষক
সিঙ্গাপুরে গত বছর পাইলট প্রকল্পের আওতায় একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে রোবট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই রোবট শিক্ষকের নাম পিপার। পিপার শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। প্রাক–স্কুলের শিক্ষার্থীদের গল্প শোনাতে পারে এই রোবট। যেসব শিক্ষার্থী একটু লাজুক, কম মিশতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে রোবট শিক্ষক খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে। লাজুক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করে তাকে হাসি-আনন্দে রেখে কাজ আদায় করে নিতে পারে। শিক্ষার্থীরাও সাধারণ শিক্ষকের চেয়ে রোবট শিক্ষককে বেশি পছন্দ করেছে।

 

রোবট শিক্ষক পিপারের সঙ্গে কথা বলছে এক শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপি

বুনো স্কুল
ডেনমার্কে প্রাক–স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা বনের ভেতর পড়াশোনা করে। ড্যানিশ ফরেস্ট অ্যান্ড নেচার এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির ১০ শতাংশ প্রাক–স্কুল বনের ভেতর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক আবহের মধ্যে অবস্থিত। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বনের ভেতর নিয়ম করে ঘুরে বেড়াতে হয়। তাদের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। স্কুলের পড়াশোনার সব উপকরণও বনের ভেতর থেকে নেওয়া।

দ্য

 

থিংক গ্লোবাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ছবি: দ্য থিংক গ্লোবাল স্কুলের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

বিশ্বজোড়া পাঠশালা
যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের দ্য থিংক গ্লোবাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে পুরো বিশ্বটাই যেন একটি স্কুল। প্রতি সেমিস্টারে তাঁরা একেকটি দেশে পড়াশোনা করেন। নতুন নতুন দেশের ভাষাও শিখতে হয় তাঁদের। পড়াশোনার অংশ হিসেবে নতুন দেশের একদম স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশতে হয় শিক্ষার্থীদের। সেসব দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতিও জানতে হয় তাঁদের। এই স্কুলের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভারত, বতসোয়ানা, জাপান ও স্পেনের যেতে হবে।