প্রতি কেজি বাড়তি ওজন আয়ু কমায় দুই মাস

Print Friendly, PDF & Email

স্থূলতা যে কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, সেটি সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু স্থূলতার মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ুষ্কালের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়ে, সে বিষয়ে এতদিন স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না কারোরই। এ অন্ধকারও দূর করে দিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, প্রতি কেজি ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তির আয়ু কমে দুই মাস করে। অন্যদিকে আয়ুষ্কাল কমে যাওয়ার পেছনে দায়ী জিন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ বালাই থেকে মুক্তির উপায়ও উঠে এসেছে গবেষণায়। এবং সেটি আরো চমকপ্রদ। এতে বলা হয়েছে, স্কুলপর্যায়ের পর পড়াশোনার পেছনে প্রতি এক বছর ব্যয়ের সঙ্গে আয়ুও বাড়ে এক বছর করে। খবর সায়েন্স ডেইলি।

গবেষণায় আরো উঠে আসে, যারা ধূমপান ছেড়ে দেয়, দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করে এবং সবসময়ই নতুন অভিজ্ঞতা নিতে তৈরি, দীর্ঘ আয়ুষ্কালের প্রত্যাশা করতে পারে তারাও।

ছয় লাখেরও বেশি ব্যক্তির জিনগত তথ্য ও তাদের মা-বাবার আয়ুষ্কালের তথ্যের রেকর্ড বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার একদল বিজ্ঞানী। প্রত্যেক ব্যক্তিরই জিনে সংরক্ষিত তথ্যের অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে ও বাকি অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে। এ কারণে পর্যবেক্ষণের আওতাধীন ব্যক্তিদের মা-বাবার আয়ুষ্কালসংক্রান্ত তথ্যও বিশ্লেষণ করে দেখেন গবেষকরা।

ডিএনএস্থিত জিন মানুষের জীবনাচরণ অনেকাংশেই নির্ধারণ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা বাড়াবে কিনা বা নেশাসক্ত হয়ে পড়বে কিনা, সে বিষয়ের ওপর জিনের প্রভাব থাকে অনেকাংশেই। এ কারণেই জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই আয়ুষ্কাল নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকসহ ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ২৫টি শুমারিতে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ব্রিটিশ বায়োব্যাংকের তথ্যগুলো সংগৃহীত হয়েছিল স্বাস্থ্য ও রোগবালাইয়ের ক্ষেত্রে জেনেটিকস ও জীবনাচরণের প্রভাব সম্পর্কিত পূর্বতন আরেক গবেষণার আওতায়।

বিজ্ঞানীরা আয়ুষ্কালের ওপর প্রভাব ফেলা সম্ভাব্য প্রত্যেকটি কারণের সঙ্গে স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের সংশ্লিষ্টতাকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করেন। এ কারণে আয়ুষ্কাল নির্ধারণে প্রতিটি প্রভাবকের ভূমিকাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

তারা দেখতে পান, যারা দৈনিক এক প্যাকেট করে সিগারেট খান, তাদের ক্ষেত্রে সার্বিক গড় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়ায় সাত বছর করে। আবার যারা ধূমপান ছেড়ে দেন, একপর্যায়ে তাদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়ায় একজন অধূমপায়ীর সমপর্যায়ে।