আগামী বছর ৭৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার হবে মোবাইল ডিভাইসে

Print Friendly, PDF & Email

২০১৭ সালে ৭৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার হবে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে। চলতি বছরের চেয়ে এ পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। কনজিউমার পর্যায়ে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মিডিয়া বাইয়িং এজেন্সি জেনিথ গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

জেনিথ এর আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৬ সালে ৭১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার হবে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে। ২০১৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন খাতের ৬০ শতাংশ আসবে মোবাইল বিজ্ঞাপন খাত থেকে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং ফোরকাস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালের মধ্যে মোবাইল বিজ্ঞাপন খাতের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার; যা সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, সিনেমা ও আউটডোর বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যাবে।

জেনিথ ফ্রেঞ্চ অ্যাড এজেন্সি পাবলিসিস গ্রুপ এসএর একটি বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বৈশ্বিক মোবাইল বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার দাঁড়াবে।

গোটা বিশ্ব এখন ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোয়ও এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচার-প্রচারণায়ও পরিবর্তন এসেছে উল্লেখযোগ্য। টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনের মতো মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ফটো শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন স্ন্যাপচ্যাট এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের বেশকিছু অনলাইন সেবা।

টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মতো প্রচলিত মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পণ্যের প্রচারণা পৌঁছানো যায়। কিন্তু ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের গ্রাহকের কাছে পণ্যের পরিচিতি পৌঁছানো সম্ভব হয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড এ কারণে টেলিভিশনের চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোয় বেশি ব্যয় করছে।

ইনোভেশন কনসালট্যান্সি ফার্ম ডিডিজি ইনকরপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্কট সিঙ্গার বলেন, একটা সময় ছিল, তখন ডেস্কটপ কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহারের একমাত্র মাধ্যম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছে আরো আগেই। শুধু চার বছরের ব্যবধানে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের জন্য এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।

বিশ্বব্যাপী সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে মোবাইল ডিভাইস নির্ভরশীলতা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় প্রচলিত মাধ্যম থেকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে স্থানান্তর করতে বাধ্য করছে।

মোবাইল ডাটা ব্যবহার বৃদ্ধি টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে ভিডিওসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ও ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন বিষয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। অর্থাত্ ক্রমবর্ধমান মোবাইল ডাটা চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে খাতসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান। একীভূতকরণ বা তুলনামূলক ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীদের অধিগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো।

বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটি মিডিয়া কোম্পানি টাইম ওয়ার্নার ইনকরপোরেশনকে ৮ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কেন এ অধিগ্রহণ? টেলিযোগাযোগ কোম্পানি কেন মিডিয়া কোম্পানি অধিগ্রহণের এত বড় অংকের ঝুঁকি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিগগিরই মোবাইল বিজ্ঞাপন খাত হবে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের অন্যতম খাত। সংশ্লিষ্ট খাতের কথা বিবেচনা করেই টাইম ওয়ার্নারকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত এটিঅ্যান্ডটির।