চীন হোক বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহৎ অংশীদার

Print Friendly, PDF & Email

দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হৃদ্যতার সম্পর্ক চীন-বাংলাদেশের। পরীক্ষিত বন্ধুপ্রতীম দেশটির প্রেসিডেন্টের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞ মহল।

সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে চীনকে বলা হয় এশিয়ার ‘সুপার পাওয়ার’। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবশালী এই দেশটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে বিশ্বের কয়েকটি দেশকে বাধ্য হয়ে মুদ্রার অবমূল্যায়নও করতে হয়েছে। গত বছর দেশটি রপ্তানি খাত থেকে ২ হাজার ২৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এ থেকেই বোঝা যায় বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন কতোটুকু প্রভাব বিস্তার করছে। প্রায় তিন দশক পর এই বৃহৎ অর্থনীতির দেশটির কোনো প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে এলেন।

কথায় আছে ‘বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী’। স্বাভাবিকভাবেই আশা করা হচ্ছে, বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারকারী দেশটির সঙ্গে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ আলোচনায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বিষয় দুটিকে অগ্রাধিকার দেবে। এ মুহূর্তে দেশে অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দৃশ্যমান। চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই খাতে দুদেশেরই আগ্রহের কারণে এ বিষয়ক চুক্তি সফল হবে বলে আশা করা যায়। তবে সংকট রয়েছে বিনিয়োগ খাতে। এ খাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের অবদান সামান্যই। ফলে দেশটি যাতে আমাদের দেশে বিনিয়োগে আরো বেশি আগ্রহী হয় এ বিষয়ে সরকারকে আরো বেশি আন্তরিক হয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বিশাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ ঘাটতির পরিমাণ  ছিল ৭৫১ কোটি মার্কিন ডলার। ওই সময় চীনের বাজারে বাংলাদেশের মাত্র ৭২ কোটি ডলারের পণ্য প্রবেশ করেছে। এ ঘাটতি দূর করতে বাংলাদেশকেই উদ্যোগী হতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই সফরকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চীনা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশ এখন আর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নয় বরং দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। আমরা আশাকরি, চীনা প্রেসিডেন্টের এই ঐতিহাসিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার অপার দুয়ার উন্মোচিত হবে। শুধু তাই নয়, চমৎকার আন্তঃসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবে চীন।