সুনামগঞ্জ দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হচ্ছে

Print Friendly, PDF & Email

ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের অনুমতি

সুনামগঞ্জের তিনটি শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানির অনুমতি দিয়েছেন ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। ১ অক্টোবর থেকে এসব স্টেশন দিয়ে তিন মাসের জন্য কয়লা আমদানি শুরু হবে। তবে এজন্য রফতানিকারকদের ১ অক্টোবরের মধ্যে রয়্যালটি জমা দিতে হবে।

সুনামগঞ্জ কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলকাছ খন্দকার বলেন, ‘ভারতের মাইন ওনার্স এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আমাদের কয়লা আমদানির অনুমতির ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।’

তিনি আরো জানান, তিন মাসের জন্য কয়লা রফতানির অনুমতি দেয়ায় আমদানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি এলেও তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, স্থায়ীভাবে কয়লা আমদানিতে উভয় দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত জরুরি।

জানা গেছে, দুই বছর ধরে ভারতের মেঘালয় থেকে সুনামগঞ্জের বড়ছাড়া, বাগলি ও ছাড়াগাঁও দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ আমদানিকারক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের কোটি কোটি টাকা রফতানিকারক ও দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বাকি পড়ে আছে।

মাঝখানে দুবার কিছু সময়ের জন্য আমদানি শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। কয়লা আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

২০১৪ সালে ভারতের পরিবেশবাদী সংগঠন কর্তৃক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল মেঘালয় সরকারকে কয়লা খনি খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে মাঝে মধ্যে কয়েকবার সীমিত সময়ের জন্য পণ্যটি রফতানির অনুমতি দিলেও সুনামগঞ্জের আমদানিকারকরা এ স্বল্প সময়ের জন্য তেমন উত্সাহ দেখাননি। ১৫ মে থেকে আদালতের নির্দেশে সিলেট বিভাগের সবগুলো স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি ফের বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, সিলেটের তামাবিল, বড়ছড়াসহ পাঁচটি শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে কয়লা আমদানি করা হয়। দেশে পণ্যটির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি হতো এসব শুল্কস্টেশন দিয়ে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লাখ টন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের বড়ছড়া দিয়ে সবচেয়ে বেশি কয়লা আমদানি হতো।

তবে ২০১৪ সালে ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প উত্স খুঁজতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্যটির আমদানি শুরু হয়।

সিলেটের কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান, এখন ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। তবে ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে পণ্যটির আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, সুনামগঞ্জের তিন শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি নিয়ে রফতানিকারকসহ ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি, এর স্থায়ী সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি কয়লানির্ভর শিল্পগুলোও বিপাকে পড়েছে।