ডায়রিয়া চিকিত্সায় আপেল জুসই সর্বোত্তম

Print Friendly, PDF & Email

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। আর এতে সবচেয়ে বেশি নেতিয়ে পড়ে শিশুরা। সাধারণত আক্রান্তদের খাওয়ার স্যালাইন দেয়া হয়, যাতে শরীর পানি ও লবণশূন্য হয়ে না পড়ে। অবস্থা গুরুতর হলে আক্রান্তদের রক্তনালিতে সরাসরি (আইভি) স্যালাইন দেয়া হয়। তবে এখন গবেষকরা বলছেন, এসব কিছুর চেয়ে লঘু আপেল জুসই ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার চিকিত্সায় সর্বোত্তম। খবর হেলথনিউজলাইন।

সম্প্রতি ডায়রিয়া চিকিত্সায় আরো কার্যকর কোনো পদ্ধতি বের করতে গবেষণা চালান কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগ্যারির বিজ্ঞানীরা। এতে নেতৃত্ব দেন স্টিফেন বি ফ্রিডম্যান। গবেষক দলটি পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা বা ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত শিশুদের ওপর পরীক্ষা চালায়। এতে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৬৪৭ শিশুর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষক দল শিশুদের চিকিত্সার অংশ হিসেবে অর্ধশক্তির (৫০ শতাংশ লঘু) আপেল জুস, পছন্দসই অন্য পানীয় ও আপেলের ফ্লেভারসমৃদ্ধ স্যালাইন সরবরাহ করেন। এতে দেখা যায়, লঘু আপেল জুস গ্রহণ করা শিশুরা পানিশূন্যতা কাটিয়ে উঠছে দ্রুত। এ-বিষয়ক গবেষণা নিবন্ধটি সম্প্রতি জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশ হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আপেল জুস সরবরাহ করা শিশুদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশের চিকিত্সায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এর বিপরীতে স্যালাইন সরবরাহ করা শিশুদের ২৫ শতাংশ এ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এছাড়া অন্য পানীয়র সঙ্গে আপেল জুস গ্রহণ করা শিশুদের মধ্যে মাত্র আড়াই শতাংশকে আইভি স্যালাইন দিতে হয়েছিল। এর বিপরীতে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ করা শিশুদের মধ্যে এ হার ছিল ৯ শতাংশ।

বিজ্ঞানীরা জানান, আপেল জুস থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার পায় দুই বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের শিশুরা। এ বয়সী শিশুদের মিষ্টিজাতীয় পানীয়র প্রতি আকর্ষণই এর পেছনের কারণ। যদিও এ গবেষণায় ব্যবহূত স্যালাইনও মিষ্টি ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও শিশুরা এর প্রতি কোনো ধরনের আগ্রহ বোধ করেনি।