কালো চকোলেট কমায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

Print Friendly, PDF & Email

চকোলেট বেশি খেলে ডায়াবেটিস, হূদরোগ, দাঁতের ক্ষয়, স্থূলতাসহ আরো হাজারটা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এমন কথা আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি। অভিভাবক থেকে স্বাস্থ্যবিদ সবাই এসব কথা অসংখ্যবার আমাদের সামনে উচ্চারণ করেছেন। উচ্চক্যালরি, সম্পৃক্ত চর্বি ও চিনিসমৃদ্ধ চকোলেট এমন অপবাদ হজম করতে বাধ্যও বলা চলে।

তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কালো চকোলেট গ্রহণকে বরং হূদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর বলে জানাচ্ছেন তারা। খবর হেলথনিউজলাইন।

চকোলেট ডায়াবেটিস ও হূদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রচলিত বিশ্বাসের পাশাপাশি বিজ্ঞানও এত দিন এর পক্ষেই কথা বলেছে। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের একদল গবেষক সম্প্রতি শরীরে চকোলেটের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করেন।

এতে দেখা যায়, প্রতিদিন অল্প পরিমাণে কালো চকোলেট খেলে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এটি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাও নির্দিষ্ট সীমায় রাখতে সহায়তা করে। এ-সম্পর্কিত গবেষণাপত্রটি ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশ হয়েছে।

গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ও লুক্সেমবার্গ ইনস্টিটিউট অব হেলথের পপুলেশন হেলথ বিভাগের প্রধান স্যাভারিও স্ট্রেঞ্জেস। গবেষকরা ১৮ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ১ হাজার ১৫৩ ব্যক্তির স্বাস্থ্যতথ্য পর্যালোচনা করেন। এসব ব্যক্তি এর আগে হ্রদরোগ-সম্পর্কিত একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। গবেষণায় ওই সময়ে সংগৃহীত তথ্যকে কাজে লাগানো হয়।

অংশগ্রহণকারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ দাবি করেন, তারা দৈনিক ২৪ দশমিক ৮ গ্রাম চকোলেট খান। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব অংশগ্রহণকারী দিনে ১০০ গ্রাম (একটি বারের সমান) চকোলেট গ্রহণ করেন, তাদের ইনসুলিন প্রতিরোধী ব্যবস্থা হ্রাস করে। পাশাপাশি তাদের যকৃতের এনজাইম ও কার্যকারিতাও অন্যদের তুলনায় বেশি। বিশেষত উচ্চপলিফেনল-সংবলিত কালো চকোলেট খেলে শরীরে এ ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

অধ্যাপক স্ট্রেঞ্জেসের মতে, চা বা কফির মতো অন্যান্য পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টবিশিষ্ট খাবার ও পাণীয় শরীরের ওপর চকোলেটের মতোই ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কোকো থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার হূদযন্ত্রসহ শরীরের বিপাক ক্রিয়ার জন্য উপকারী।

যদিও পর্যবেক্ষণলব্ধ এ ফলাফলের ওপর পূর্ণ নির্ভর করার আগে বাস্তবিক কিছু পরীক্ষা করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মানুষকে আরো বেশি করে ফাইটোকেমিক্যাল-বিশিষ্ট খাবার গ্রহণে উত্সাহিত করা উচিত। যদিও প্রাকৃতিক কোকো আর চকোলেট এক নয়। তবে কোকোর বহু গুণ কালো চকোলেটে অক্ষুণ্ন থাকে।