আর্নেস্তো চে গুয়েভারার গল্প : পাথর

Print Friendly, PDF & Email

১৯৬৫ সালে চে গুয়েভারা যখন কঙ্গোয়, তিনি অ্যালেইদার জন্য কয়েকটি ছোটগল্প লিখেছেন। একটি গল্প The Stone। মায়ের মৃত্যুতে তিনি সেখানে শোকাহত। তিনি নিজের মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি কল্পনা করছেন।

অ্যালেইদা মার্চের জন্ম (১৯৩৭) কিউবার সান্তা ক্লারায়। ২ জুন ১৯৫৯ চে গুয়েভারার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি চের সহযোদ্ধা। কাস্ত্রোর ডাকে বরাবরই সম্মুখ সমরে ছিলেন।

স্মর্তব্য, ৯ অক্টোবর ১৯৬৭ চে গুয়েভারাকে হত্যা করা হয়।

একজন কঠিন মানুষকে এসব কথা যেভাবে বলা উচিত, সংবাদটা সে ঠিক সেভাবেই জানায়, আমি সৈন্যদের দায়িত্বে, আমি তার কাছে এজন্য কৃতজ্ঞ। সে তার উদ্বেগ কিংবা যন্ত্রণা লুকায়নি। আমি চেষ্টা করেছি যাতে আমারটা প্রকাশ না হয়। ব্যাপারটা এ রকমই একটা সাধারণ বিষয়!

তাছাড়া আমাকে যদি যথার্থ শোক প্রকাশ করতে হয়; খবরটি নিশ্চিত কিনা, তা জানার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। কান্নাকাটি করা ঠিক হবে কিনা ভাবছিলাম। না, না, এটা সম্ভব নয়। নেতার ব্যক্তিগত কোনো অনুভূতি থাকতে পারে। তার মানে এই নয় যে, ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকার অধিকার সে অস্বীকার করেছে। তার সৈন্যরা যেভাবে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে, সহজ ব্যাপার— তেমনটা তার করা অবশ্যই ঠিক হবে না।

‘পরিবারের এক বন্ধু খবর জানিয়েছে যে, তিনি খুব অসুস্থ। কিন্তু আমি সেদিন সেখানে ছিলাম না।’

‘ব্যাপারটা কি গুরুতর? তুমি বলতে চাও, তিনি মারা যাচ্ছেন?’

‘হ্যাঁ।’

‘আর কোনো কিছু যদি তোমার কানে আসে, তা আমাকে বলতে যেন ভুলো না।’

‘কোনো কিছু শোনামাত্রই… কিন্তু কোনো আশা আছে বলে আমি মনে করি না।’

মৃত্যুর বার্তাবাহক চলে গেল, কিন্তু আমি নিশ্চিত কোনো কিছু পাইনি। একমাত্র যে কাজটি আমি করতে পারি তা হচ্ছে অপেক্ষা করা। খবরটা যখন দাফতরিকভাবে জানা হয়ে যাবে, আমার দুঃখ প্রকাশের অধিকার আছে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। আমি ‘না’র দিকেই ঝুঁকে আছি।

বৃষ্টির বিরুদ্ধে সকালের সূর্য বেশ করাঘাত করল। এতে বিস্ময়কর কিছু নেই। প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে, তার পর সূর্য বেরিয়ে এসে নিজেকে অনুভব করিয়ে ছেড়েছে এবং স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করেছে। যদিও সেদিন পার্বত্যাঞ্চলে তেমন বৃষ্টি হয়নি, বিকাল নাগাদ জলস্রোত আবার স্ফটিক স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। এটাই তো স্বাভাবিক।

‘ওরা যে বলল, ২০ মে বৃষ্টিপাত এবারের মতো থেমেছে, অক্টোবরের আগে আর বৃষ্টি হচ্ছে না।’

‘ওরা তো এসবই বলে: ওরা অনেক কিছুই বলে, যা সত্য নয়।’

প্রকৃতি কি পঞ্জিকা মেনে চলবে? মানুক বা না-ই মানুক, আমার কিছুই আসে যায় না। সাধারণভাবে বলতে গেলে কোনো কিছুকেই আমি তেমন পাত্তা দিই না— এই বাধ্যতামূলক অলসতাকেও নয়, উদ্দেশ্যহীন এ আহাম্মকি যুদ্ধকেও নয়। বেশ তো, যুদ্ধের না হয় একটা লক্ষ্য ছিল, কিন্তু তা ছিল বেশ ভাসা ভাসা, বেশ অস্পষ্ট। লক্ষ্য যা-ই থাকুক, মনে হয় সেখানেই পৌঁছা যাবে— এ যেন পরাবাস্তববাদী নরকের মতো, বিরক্তিই যেখানে অনন্তকালীন শাস্তি। এতে আমার অবশ্য কিছু এসে যায়। অবশ্যই এসে যায়।

আমি নিজেকে বোঝালাম, এসব ভেঙে বেরিয়ে আসার পথ আমাকে বের করতে হবে। কাজটা মাথায় রেখে সমস্যার সমাধান সহজ। হাজারটা পরিকল্পনা করুন, প্রতিটি পরিকল্পনা পরেরটার মতো লোভনীয়, শ্রেষ্ঠ দু-তিনটিকে একত্র করে কাগজে লিখে ফেলুন, তার পর এটার সরলীকরণ করে জোগান দিন। এখানেই এর শেষ এবং নতুন একটার শুরু। আমলাতন্ত্রের একটা অস্বাভাবিক ধরনের চালাকি আছে, কাজটা পুরো না করে এটাকে গায়েব করে দেয়া। আমার লোকেরা বলে, তারা এটাকে ধোঁয়া বানিয়ে ফেলেছে— যদি ভেতরে কিছু থাকে, এক টুকরো কাগজ পেঁচিয়েও ধূমপান করা যায়।

আমার এ মানসিক ভাবনাচর্চার একটা সুবিধে আছে। আমি যা পছন্দ করছি না, পরবর্তী পরিকল্পনায় তা বদলে দিতে পারি। এটা কারো চোখে পড়বে না। মনে হয় অনন্তকাল ধরে এ চর্চা চালিয়ে যাওয়া যাবে।

আমার ধূমপান করার ইচ্ছে জাগে, বরাবরের মতোই আমার পকেটে রাখা পাইপ বের করে আনি। আমার সৈনিকদের মতো আমি কখনো পাইপ হারাইনি। এটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধোঁয়ার পথ ধরে মানুষ যেকোনো দূরত্বে চলে যেতে পারে; আমি বরং বলব, ব্যাপাটাকে স্বপ্নের মতো হতে না দিয়েই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিজয় অর্জন সম্ভব। তা অনেকটাই হবে বাস্তবতাপ্রসূত দূরত্বের সঙ্গে বাষ্পীভূত হওয়ার মতো এবং ধোঁয়ার রেখায় সদাই বর্তমান কুয়াশার মতো। এই যে পাইপ, এটা বেশ একটা সঙ্গী। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস তারা কেমন করে হারায়? কী নির্মম।

তারা আসলে নির্দয় নয়। তারা তাদের কাজ শেষ করেছে, এখন ক্লান্ত। কাজেই তাদের আর এখন ভাবতে হচ্ছে না— চিন্তা করা ছাড়া পাইপের আর কোন ব্যবহার থাকতে পারে। কেউ স্বপ্ন দেখতে পারে। হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখতেই পারে। কেউ যখন দূর থেকে স্বপ্ন দেখে, তখন পাইপটা গুরুত্বপূর্ণ— ভবিষ্যতের দিকে স্বপ্ন যার একমাত্র পথ হচ্ছে ধোঁয়া অথবা পেছন ফিরে অতীতের স্বপ্ন, যার পথরেখা ধরতে দূরত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শরীরে কোথাও এর জন্য জরুরি চাহিদা অনুভূত হয়। তাদের অতিশয় পা, সন্ধানী দৃষ্টি আর তাদের ধোঁয়ার সাহায্য লাগে না। আমার সৈন্যরা পাইপ হারিয়ে ফেলেছে। কারণ এটা তাদের তেমন জরুরি নয়; জরুরি কিছু হারায় না।

আমার কি এ রকম আর কিছু আছে? আছে, আমার গলার স্কার্ফ, এটা অবশ্য ভিন্ন জিনিস। যদি আমার হাত জখম হয়, তাহলে স্কার্ফটা দিয়ে হাতটা বেঁধে গলায় ঝুলিয়ে রাখতে পারি, সেজন্য সে আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যদি আমার মাথাটাই গুঁড়িয়ে যায়! তখন একটা সহজ সমাধান থাকবে, আমার চোয়াল আটকে রাখার জন্য আমার মাথার চারপাশে স্কার্ফটা পেঁচিয়ে নিতে হবে, আর এটাকে আমি আমার সঙ্গে কবরে নিয়ে যাব। মৃত্যুতে অনুগত থেকে যাবে। কিন্তু আমাকে যদি পাহাড়ের কাছে ফেলে রাখা হয় কিংবা কেউ যদি আমাকে সেখান থেকে তুলে নেয়, আমার গলায় কোনো স্কার্ফ থাকবে না। ঘাসের ওপর আমার দেহে পচন ধরবে অথবা ওরা আমাকে প্রদর্শনীর জন্য রাখবে। এমনও হতে পারে, আমি এমনকি লাইফ ম্যাগাজিনে উপস্থাপিত হতে পারি— চরম আতঙ্কের মুহূর্তে আমার মৃত্যুকালীন দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে। কারণ সবাই আতঙ্কিত। এটাকে অস্বীকার কেন করবে?

ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে আমি পুরনো পথরেখা অনুসরণ করে আমার আতঙ্কের সবচেয়ে প্রিয় জায়গাটিতে পৌঁছে যাই। এসব বরাবরই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল— সেই বিরক্তিকর ও অবর্ণনীয় নাথিংনেস নাস্তি। যদিও বর্ণনাতীত আমরা মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্টরা মৃত্যুকে বর্ণনা করতে ভালোবাসি নাস্তির মতোই বিশ্বাস নিয়ে। নাস্তি কিংবা অনস্তিত্ব তাহলে কী? কিছুই নয়। সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব। নাস্তি মানে নাস্তি। আমার মগজের কপাট লাগিয়ে একে কালো পোশাকে ঢেকে তারাভরা আকাশ দূরত্বে স্থাপন করে দেখুন, দেখবেন এটা কিছুই নয়— নাস্তি— নাথিং।

একজন বেঁচে থাকে তার প্রজন্মে, ইতিহাসে, তা কাজে ও স্মৃতিতে জীবনের ধরনকে রহস্যময় করে রাখে। জেনারেল মেসিও লম্বা দা চালনার কাহিনী পড়ে কি শিরদাঁড়া দিয়ে হিম বয়ে যায়নি? সেটাই নাস্তি পরের জীবন। আর আমাদের সন্তান? আমি আমার সন্তানদের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চাই না। তারা এমনকি আমাকে চেনেও না। আমি কেবল একজন বাইরের মানুষ, যে কখনো কখনো তাদের ও তাদের মায়ের মাঝখানে ঢুকে তাদের শান্তিপূর্ণ অস্তিত্বে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

আমি আমার সবচেয়ে বড় কন্যার কথা কল্পনা করি আর আমার স্ত্রী নির্বিকারভাবে তার চুল দেখিয়ে বলে যাচ্ছে, ‘তোমার বাবা হলে এটা করত না, ওটা…।’ আমার ভেতরে আমার পিতার শিশু— আমার ভেতর প্রচণ্ড বিদ্রোহের অনুভূতি কাজ করে। ছেলে হিসেবে যে অনুভূতি, বাবা হিসেবে তা সত্যি না মিথ্যে, তা আমার জানা হবে না। তাহলে আমি এটা-ওটা করতাম না, এত বাজেভাবে এ কাজগুলো করতাম না। আমার এই যে স্মৃতি, তা নিয়ে আমি ছেলে হিসেবে বিরক্ত হতাম এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার বলে ভাবতাম আর তা আমার মুখের ওপর লেপ্টানো থাকত।

আমার ছেলেকে পুরুষ হয়ে উঠতে হবে— এর বেশি কিছু নয়, এর চেয়ে ভালো বা মন্দ কিছু নয়— কেবল একজন পুরুষ। আমি আমার বাবার কাছে কৃতজ্ঞতার এ কোমল ও অহঙ্কারবিহীন ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য। আর আমার মা, বেচারির বয়স হয়ে গেছে। দাফতরিকভাবে এখনো তার জন্য আমার শোক করার অধিকার অর্জন হয়নি, খবর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হবে।

ধোঁয়ার রেখা ধরে আমি হাঁটছিলাম। একজন সৈন্য আমাকে বাধাগ্রস্ত করল, আমার কাজে লাগতে চাইল।

‘আপনি কিছু হারাননি?’

‘নাথিং।’ আমার স্বপ্নজগতের সঙ্গে মিলিয়ে ‘নাথিং’ কথাটা উচ্চারণ করলাম।

‘ভালো করে দেখুন।’

আমি আমার পকেট অনুভব করলাম। সবকিছুই ভালো চলছে। ‘নাথিং’। আর এ পাথরগুলো? আপনার চাবির রিংগুলো?

‘আমার যাচ্ছেতাই হেনস্তা হবে!’

বুনো আত্মগ্লানি আমাকে আক্রমণ করল। একজন তেমন জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কিছুই হারাল না। যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন না থাকে, তাহলে কি কাউকে জীবিত বলা যায়? গাছ-গাছড়া হলে হ্যাঁ, কিন্তু নৈতিক প্রাণী হলে না, অন্তত আমি তা বিশ্বাস করি না।

আমি স্মৃতির হিম অনুভব করলাম। আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম কঠোর পরিশ্রমী। খুঁটিনাটি বিষয়ে যত্নবান পাহাড়ি কাদায় অস্বচ্ছ পানির স্রোত যখন বয়ে যাচ্ছে, আড়াল করছে নিজের গোপনীয়তা, আমি আমার পকেট অনুভব করলাম। পাইপ— সবার আগে পাইপটা সেখানেই আছে। কাগজ কিংবা স্কার্ফ ভেসে থাকতে পারে; বাষ্পীভবন যন্ত্র রয়ে গেছে, কলম এখানে, নোট বুকগুলো নাইলন কাভারে, হ্যাঁ দেশলাইয়ের বাক্সও আছে। সবই ঠিক আছে। হিম দ্রবীভূত হচ্ছে।

আমি যুদ্ধক্ষেত্রে আমার সঙ্গে দুটি সামান্য স্মৃতিখণ্ড এনেছি, একটি আমার স্ত্রীর দেয়া গলায় বাঁধার স্কার্ফ, আর আমার মায়ের দেয়া একটি চাবি রিং, তাতে ছোট একটি পাথর— সাধারণ কম দামি জিনিস। পাথরটা আলগা হয়ে গেছে, আমি খুলে পকেটে রেখেছি।

ঝরনা কি করুণা নিয়ে, প্রতিশোধ নিয়ে বইছে নাকি নেতার মতো নিরাসক্ত? কেউ কাঁদে না কেন— কারণ তার কাঁদা উচিত নয়, নাকি সে কাঁদতে পারছে না? এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও ভুলে যাওয়ার কোনো অধিকার কি নেই? অতিরিক্ত পৌরুষের মতো অনুভূতির ঘাটতি লুকানো কি খুব দরকারি?

আমি জানি না, আমি সত্যিই জানি না। আমি কেবল জানি, একটি শারীরিক প্রয়োজনে আমি আমার মাকে চাই, যাতে তার হাড়হাড্ডি কোলে আমার মাথাটা রাখতে পারি। আমি চাই, মা আমাকে ডাকুক এমনই কোমল কণ্ঠে ‘আমার বুড়ো খোকা’ যেন তার অগোছালো হাত আমি আমার চুলে অনুভব করি, সোহাগ করে আমাকে টোকা দিচ্ছে, পুরনো পুতুলের মতো, তার চোখ থেকে নেমে আসছে কোমলতা আর তার স্বর ভাঙা চ্যানেল একে আর তুঙ্গে নিয়ে যেতে পারছে না। তার হাত কাঁপে, স্পর্শ করে, সোহাগ করে না; কিন্তু কোমলতা ঠিকই ঝরে পড়ে। আমি কী যে ভালো অনুভব করি, কত্ত ছোট, কত্ত সবল। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার মা সব বোঝে না। মা যখন বলেছে ‘আমার প্রিয় বুড়ো খোকা’, তখনই তো সব স্পষ্ট হয়ে গেছে।

‘তামাকটা কি খুব কড়া মনে হয় না? এটা আমাকেও পেয়ে বসে। গতকাল আমি যখন দাঁড়াতে চেষ্টা করছিলাম, আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। সম্ভবত তামাকটা ভালো করে শুকোয়নি।’

‘হ্যাঁ, তামাকটা জঘন্য। আমি কাটা তামাক পাতার হুকুম দিয়ে বসে অপেক্ষা করছি, দেখি অন্তত অর্ধেক ভালো তামাক আনতে পারে কিনা। ধূমপান করার অধিকার তো থাকবেই, এমনকি শান্ত ও সুস্বাদু একটি পাইপেরও, তুমি কি তা মনে কর না?