জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার

Print Friendly, PDF & Email

জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার। এছাড়া ইন্দো-চীন অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব চীন ও ইন্দোনেশিয়ায়ও এ ভাইরাস ছড়ানোর মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এমনকি ওশেনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের এক যৌথ গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণা পরিচালনাকারী বিজ্ঞানীরা একটি বৈশ্বিক ম্যাপ তৈরি করেছেন, যেখানে তারা বিশ্বের ওই এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছেন, যার সঙ্গে এরই মধ্যে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে পরিবেশগতভাবে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সাদৃশ্য রয়েছে।

ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় আবহাওয়া-বিষয়ক বিভিন্ন পরিমাপক যেমন— বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, ভূমির প্রকৃতি ও বিভিন্ন তাপমাত্রায় ভাইরাসের প্রসার ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

গবেষণাটি আরো বলেছে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় বিশেষ করে কঙ্গো ও আশপাশ অঞ্চলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গবেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এশিয়া ও আফ্রিকার বিশাল অঞ্চলে যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

পৃথিবীর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ প্রাণঘাতী এ জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাইরাসটি প্রথম নজরে আসে ২০১৩ সালে ব্রাজিলে। কিন্তু ২০১৫ সালে এর সংক্রমণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রধান গবেষক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জেনি মেসিনা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘আমরা মানুষের মধ্যে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সব তথ্য সামগ্রিকভাবে সমন্বয় করেছি, একটি ম্যাপের আকারে দেখিয়েছি এবং এ ভাইরাস পরবর্তীতে সম্ভাব্য কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা বিস্তারিতভাবে দেখিয়েছি।’

গবেষণায় আরো বলা হয়, ভারতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু দেশটির এক বিশাল অঞ্চল এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটার।

এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন গর্ভবতী নারীরা। এর সংক্রমণে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪টি দেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২টি দেশ ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এসব দেশে এর আগে ভাইরাসটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সিয়াটল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের ডেভিড পিগট বলেছেন, আমরা গবেষণায় দেখেছি, ২৭০ কোটিরও অধিক মানুষ এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছে, যা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।