বিয়েতে ক্যান্সার আক্রান্তের বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে

Print Friendly, PDF & Email

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে বিয়েতে। প্রায় আট লাখ লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে সহায়তা নিয়েছেন বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৈরি আগের এ ধরনের বেশকিছু গবেষণাপত্রের।

শুধু তা-ই নয়, জাতি বা নৃগোষ্ঠীভেদে বিষয়টির প্রভাব নিয়েও অনুসন্ধান চালিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন, শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে যাদের শরীরে হিস্পানিক (আমেরিকা মহাদেশে সাবেক স্প্যানিশ উপনিবেশগুলোর জনসাধারণ) রক্ত নেই, তাদের ওপর বিয়ের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সবচেয়ে ভালো। খবর গার্ডিয়ান, হেলথ নিউজ লাইন।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিয়া এলেনা মার্টিনেজ। ক্যান্সার রোগীদের বাঁচানোয় বিয়ের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে, বিয়ের ফলে সৃষ্ট সামাজিক সম্পর্ক ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণেই এ ধরনের ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।’

‘ক্যান্সার’ জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকরা জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যান্সার রেজিস্ট্রি থেকে তারা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭০ জন পুরুষ ও ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৭ নারী ক্যান্সার আক্রান্তের তথ্য সংগ্রহ করেন। সবচেয়ে মারাত্মক ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত এদের সবার রোগ ধরা পড়েছিল ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে। ২০১২ সাল পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর এ রোগীদের সবার সব ধরনের তথ্য জোগাড় করেন গবেষকরা।

গবেষণায় বীমা ও রোগীর আশপাশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিসহ বেশকিছু প্রভাবক সমন্বয় করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, বিয়ে থেকে পুরুষ ও নারী উভয়েই লাভবান হন। তবে এ দুই লিঙ্গের মানুষের ওপর জাতি ও গোষ্ঠীভেদে বিয়ের প্রভাবে ভিন্নতা দেখা গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে যারা হিস্পানিক বংশোদ্ভূত নন, তাদের ওপর বিয়ের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি। এ জাতিসত্তার অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে বিবাহিতদের তুলনায় মৃত্যুহার ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১৭ শতাংশ বেশি।

বর্তমান সময়ে অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে গবেষকদের এখন বিয়ের কার্যকারিতার জায়গাগুলো খুঁজে বের করায় মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করছেন মার্টিনেজ। তার মতে, পরবর্তী গবেষণাগুলোর আলোচ্য বিষয় হতে পারে, একসঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বা বিষণ্নতার সময়ে পাশে দাঁড়ানো অথবা নিয়মিত ওষুধ নেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে বিবাহিত ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গীরা তাদের বাঁচিয়ে রাখায় ভূমিকা রাখেন, তা খুঁজে বের করা।

গবেষণায় আরো একটি বিষয় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া অবিবাহিত পুরুষ রোগীদের ভেতর এশিয়া প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্সদের (এপিআই— চীন, জাপান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত) মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। একই উত্স থেকে উদ্ভূত বিবাহিতদের তুলনায় এদের মৃত্যুহার ২১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেয়া অবিবাহিত এপিআইদের ক্ষেত্রে এ হার বেশি ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া অবিবাহিত এপিআই পুরুষের মৃত্যুহারের সঙ্গে তাদের মা-বাবার মূল সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র ত্যাগের সংযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া অবিবাহিত নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হিস্পানিক জাতিগোষ্ঠী উদ্ভূতদের ভেতর।