প্রবাসীদের বৈধতা দেওয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া

Print Friendly, PDF & Email

বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া অবৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। গতকাল সোমবার থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দেশটি। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চলবে। অনলাইনের মাধ্যমে এ নিবন্ধন করতে পারবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

স্টার অনলাইন, বারনামাসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

খবরে বলা হয়, অবৈধদের বৈধতা দিতে শ্রমিক জনপ্রতি কোম্পানিগুলোকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৮০০ রিঙ্গিত ও সার্ভিজ চার্জ বাবদ ৪০০ রিঙ্গিত দিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য খরচের মধ্য রয়েছে অবৈধ হিসেবে মালয়েশিয়ার অবস্থানের জন্য শ্রমিকপ্রতি ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা, বিশেষ ভিসা পাস বাবদ ৬০ রিঙ্গিত ও প্রসেসিং ফি বাবদ ১২৫ রিঙ্গিত।

তবে কর্মক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে এতে কম বেশি লাগতে পারে।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় বিপুল পরিমাণে বাংলাদেশি রয়েছে। যাদের বড় একটি অংশই অবৈধ। সম্প্রতি দেশটির সরকার আরও ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকার ও শিল্প মালিকদের মধ্য এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়ার জন্য কোম্পানি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার এক প্রেস কনফারেন্সে মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব দাতুক সেরি আলভি ইব্রাহিম জানান, নতুনভাবে বৈধ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার চেয়ে অবৈধদের বৈধ করে নেওয়া শিল্প মালিকদের জন্য সস্তা।

মন্ত্রী বলেন, সোমবার থেকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রকল্প চালু হয়েছে। এতে প্রত্যেক অবৈধ কর্মীকে কোম্পানিকে যেখানে লেভী চার্জসহ ৪ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, সেখানে নতুনভাবে বৈধদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য দিতে হচ্ছে ১০ হাজার বা তার বেশি রিঙ্গিত। দূতাবাসসহ বেশকিছু প্রক্রিয়ায় এই অর্থ ব্যয় হয়।

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের নিবন্ধন করিয়ে নিতে কোম্পানির মালিকদের ভয়ের কিছু নেই। অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

মালয়েশিয়ায় থাকা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা নিশ্চিত করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য শিল্প মালিকদের এ ব্যাপারে সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করা উচিত।

বাংলাদেশ থেকে আরও ১৫ লাখ শ্রমিক আনার দরকার নেই- মালয়েশিয়ার শিল্প মালিকদের সংগঠন এফএমএমের এমন বিবৃতি নিয়ে তিনি বলেন, গত বছর, মন্ত্রণালয় বিদেশিদের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৮১টি আবেদন পেয়েছে।

সে হিসাবে চাষাবাদ, শিল্প উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্প-কারখানার প্রয়োজনীয়তা ছাড়া এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। তবে এ নিয়ে আমাদের কাছে তো রেকর্ড আছে। সেটা দেখারও সুযোগ আছে।