স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমায় শিক্ষা

Print Friendly, PDF & Email

যারা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন, তাদের স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে। সম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জীবনধারার পরিবর্তন ও সুস্বাস্থ্যের বিষয়টিও মানুষের স্মরণশক্তির ক্ষয় রোধ করে বলে ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা ও সুস্থ হূদযন্ত্র একজন ব্যক্তির নতুন করে স্মৃতিভ্রংশ হওয়া রোধ করে। অথবা অন্যদের তুলনায় দেরিতে এ রোগে আক্রান্ত হয় বলে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষকরা আশা করছেন, এর ফলাফল স্বাস্থ্যনীতি ও অন্য গবেষণায় কাজে লাগবে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্তদের সেবায় অনেক বেশি ব্যয় হয়। নতুন গবেষণায় তাদের উদ্বেগ অনেকটাই কমে যাবে। কারণ আরো বেশি মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবে।

গবেষণায় ৫ হাজার ২৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বয়স ৬০ বছর। ১৯৭৭ সালের পর চারটি সময়ে ভাগ করে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। প্রতি দশকে প্রায় ২০ শতাংশ করে স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্তের সংখ্যা কমে গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিভ্রংশ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যারা অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন, তাদের নতুন করে স্মৃতিভ্রংশ ঘটেনি।

তবে এ গবেষণার ফলাফল সব জাতি ও নৃগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা বেশির ভাগই সাদা ও শহরাঞ্চলের। যদিও আফ্রিকান-আমেরিকানদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তুলনামূলক বেশি শিক্ষিত, তাদের স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার প্রবণতা কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিংয়ের প্রকল্প পরিচালক (ডিমেনসিয়া) ডালাস অ্যান্ডারসন বলেন, ‘অ্যালঝেইমার ও স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। কারণ বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বংশগত বা জিনের কারণে এসব রোগ হচ্ছে বলাটাই যথেষ্ট নয়। এ ব্যাধি আটকাতে অনেক কিছুই করার আছে।’