সাড়ে ৩ হাজার নতুন জনবলের প্রস্তাব

Print Friendly, PDF & Email

উৎসে কর কর্তনে আলাদা পাঁচটি কর অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর নতুন অঞ্চলগুলো পরিচালনায় কত সংখ্যক জনবল দরকার হবে, তারও একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, এসব কর অঞ্চল পরিচালনায় দরকার হবে ৩ হাজার ৪৮৫ জন কর্মী।

এনবিআরের প্রস্তাবে ১ থেকে ২০তম পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রেডের প্রয়োজনীয় কর্মীদের একটি তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। তা থেকে জানা যায়, ১ থেকে ৯ গ্রেড পর্যন্ত কর্মীর প্রয়োজন হবে ১৫০ জন। এর পর দশম গ্রেডে এককভাবে সবচেয়ে বেশি কর্মী দরকার হবে। এ গ্রেডটির ১ হাজার ৩৫০ জন কর্মী লাগতে পারে। আর ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত গ্রেডগুলোর কর্মী লাগবে ১ হাজার ৪২৫ জন। আর ১৯ ও ২০ গ্রেডের কর্মী লাগবে ৫৬০ জন।

জানতে চাইলে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজস্বের প্রায় ৫৭ শতাংশ আসে উৎসে কর কর্তনের মাধ্যমে। কিন্তু বিভিন্ন কর অঞ্চলের মাধ্যমে এটি আদায় করায় প্রাত্যহিক কাজ কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এজন্য আলাদা কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি করা হলে উৎসে কর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব আরো বাড়বে।

এদিকে আলাদা অঞ্চলগুলো থেকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কী পরিমাণ হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য তালিকা করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত পাঁচটি কর অঞ্চল থেকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা।

এর পরের অর্থবছর ১০ হাজার কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩ হাজার কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ কর অঞ্চলগুলো থেকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আগামী চার অর্থবছরে প্রস্তাবিত নতুন অঞ্চলগুলো থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। প্রতি বছর বাড়ছে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা। আর এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নতুন নতুন কৌশল নির্ধারণ করছে এনবিআর। উৎসে কর কর্তনে আলাদা কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা তেমনই একটি উদ্যোগ।