৭ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১২ হাজার কোটি টাকা

Print Friendly, PDF & Email

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এত বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কার্যত অসম্ভব। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে গতবারের ন্যায় মধ্যমেয়াদে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৯১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৯ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চাইতে পিছিয়ে রয়েছে ১৩ শতাংশ। গত অথবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৬৯ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের এনবিআরের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চলে অর্থবছরের বাকী পাঁচ মাসে আদায় করতে হবে ৯৭ হাজার  ২০৫ কোটি টাকা।

অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে রাজস্ব আহরণ করতে হবে  ১৯ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার। অথচ গত সাত মাসের হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের  লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

অবশ্য সংশোধিত ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল এনবিআর। রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের বড় খাতগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট খাতের বড় আকারের ৫০ করদাতাকে চিহ্নিত করে তাদের রাজস্ব মনিটরিং করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিকভাবে দেশের সমৃদ্ধশালী বেশকিছু অঞ্চল চিহ্নিত কওে সেখানে আদায় বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে  দেশব্যাপী ৩ লাখ ২০ হাজার নতুন ব্যক্তিকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজস্বে বড় খাত মোবাইল ফোন ও সিগারেট কোম্পানির কাছ থেকে গত সাত মাসে কাঙ্খিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় হয় নি।

অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে তুলনামূলক ধীরগতির এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী) বাস্তবায়ন, আমদানিতে কিছুটা গতি মন্থরতায় প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হয় নি। ফলে চলতি অর্থবছরের বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছর ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় ১ লাখ ৭৬

হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা  বলছেন, এত বিশাল প্রবৃদ্ধি এর আগে কখনো হয়নি। সাধারনত রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি থাকে ২০ শতাশের মধ্যে। তবে এর আগে রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে।

ওই সময় ২৪ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে নতুন সোয়া তিন লাখ করদাতা  খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এনবিআর, যে অঙ্কটি মোট করদাতার সংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশ। রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা না ছাড়ানোয় অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হতাশার মধ্যে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে

রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান নতুন পরিকল্পনা জানান। তিনি বলেন, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। সে তৎপরতার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছওে দেশব্যাপী ৩ লাখ ২০ হাজার নতুন করদাতাকে কর নেটে আনায়নের লক্ষ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা কম।

রাজস্ব আদায়ের ইতিহাস তুলে ধরে নজিবুর বলেন, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ১৬৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এনবিআর। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮২৪ গুণ  বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।