শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন

Print Friendly, PDF & Email

দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা লেগেই আছে। আজ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, তো কাল আবার নিম্নমুখী। আজকে সূচক বাড়লে, কাল আবার কমে। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রবণতা চলছে।

কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এরা অতীতে রাজপথে অনেক আন্দোলন করেছেন। অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে নিজেদের কপাল নিজেরাই চাপড়িয়েছেন।

অনেকে অঝোর ধারায় কেঁদেছেন। কেউ কেউ আত্মহত্যাও করেছেন। কখন কোন শেয়ারের দাম বাড়বে আর কমবে, তার কোনো হিসাব নেই। এখানে কোনো অঙ্ক নেই, কোনো সূত্র নেই। চলছে উত্থান-পতনের লুকোচুরি খেলা।

একটা তুঘলকি কাণ্ডের ভেতর দিয়ে শেয়ারবাজার দিন অতিক্রম করছে। অথচ শেয়ারবাজার একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে এবং অর্থনৈতিক চিত্রকে প্রতিফলিত করে। তাই দেশের উন্নতির স্বার্থেই শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা, নীতিমালা ও নির্দেশনা।

ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সূচনালগ্নে শেয়ারবাজারের উত্পত্তি। ইউরোপের কৃষিজীবী মানুষ যখন শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন শেয়ার প্রসঙ্গটির সূচনা হয়। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠায় অনেক টাকার প্রয়োজন হয়, যা একজন ব্যক্তির পক্ষে জোগানো সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় যৌথ মালিকানার প্রয়োজন হয়। অর্থাত্ অনেক ব্যক্তি মিলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অনেক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হয়। একেকটি অংশীদারিত্ব মানেই একেকটি শেয়ার। একাধিক ব্যক্তির যৌথ মালিকানা বা শেয়ারের সমন্বয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং এ শেয়ারহোল্ডাররা সবাই প্রতিষ্ঠানের মালিক।

এ মালিকানা আবার ইচ্ছে করলে পরিবর্তন করা যায়। কেউ যদি তার শেয়ারটি বিক্রি করে দেন, তাহলে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হারান এবং যিনি শেয়ারটি কিনে নেন, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা অর্জন করেন। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ পদ্ধতির আধুনিক সংস্করণ বর্তমান শেয়ার ব্যবস্থা। এটা শেয়ারবাজারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, স্থায়িত্ব ও বিকাশের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানাকে একাধিক শেয়ারে বিভক্তের কোনো বিকল্প নেই। কারণ একজন ব্যক্তির পক্ষে একটি বৃহত্ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ জোগানো সবসময় সম্ভব হয় না।

একজন একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হলে তার ইচ্ছাতেই ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তিনি ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়।

ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার যোগ্য উত্তরসূরি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরতে না পারলে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে যৌথ শেয়ার বা মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে মালিকদের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা বোর্ড থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। এক বা একাধিক মালিক-শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর কারণে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ক্ষতি হয় না।

এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে। এজন্যই শেয়ারবাজারের এত গ্রহণযোগ্যতা। পুঁজিবাদী দেশগুলোয় অবাধ ব্যক্তিমালিকানার কারণে সেখানে শেয়ারবাজার ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। যেখানে এ শেয়ারবাজারের কার্যক্রম চলে, সেটাকে আমরা স্টক এক্সচেঞ্জ বলি। একটি প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহে বাজারে শেয়ার বিক্রি করে।

শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে জনগণ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা অর্জন করে এবং প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রি করে তার প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটি বছরের ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব শেষে অর্জিত লাভের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বণ্টন করে। এভাবে শেয়ারহোল্ডাররা ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগকৃত অর্থের জন্য মুনাফা অর্জন করেন।

আবার একজন ব্যক্তি তার শেয়ার অন্যের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেও মুনাফা অর্জন করেন, যা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ হচ্ছে শেয়ার ব্যবসার সারসংক্ষেপ।

এবার আমাদের শেয়ারবাজারের চিত্রটা বিশ্লেষণ করা যাক। দেশে বর্তমানে দুটি শেয়ারবাজার রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। এ দুই বাজারের মাধ্যমে শেয়ার ব্যবসার কার্যক্রম চলে।

শেয়ারবাজার কেন্দ্র করে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ গড়ে উঠেছে, যাদের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা হয়। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় এ দেশের শেয়ারবাজারের চিত্রটা অনেকটা ভিন্ন। এখানে অনেকে রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্য শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। অনেক সরকারি চাকরিজীবী তাদের অবসর ভাতার পুরো টাকাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন।

আবার অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে জড়িত হয়েছে। সবারই উদ্দেশ্য কিন্তু তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়া এবং শর্টকাটে অর্থ উপার্জন। অনেকেই কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার সময় সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেন না।

অনেক দিন ধরে মুনাফা দিচ্ছে না, এমন কোম্পানির শেয়ারও তারা কিনছেন। তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার প্রবণতা কিন্তু আমাদের শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন, অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংসের জন্য দায়ী।

কোম্পানিগুলো যখন বাজারে শেয়ার ছাড়ে তখন অনেক কোম্পানির পরিচালকের অসত্ উদ্দেশ্য থাকে। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরুন, একটি কোম্পানির ১০ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন।

পরিচালকরা যদি কোম্পানির জন্য ওই টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন, তাহলে ব্যাংকের কাছে কিছু জমি জামানত হিসেবে বন্ধক দিতে হবে। এ ঋণ ঠিকমতো পরিশোধ না করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করবে এবং বন্ধকি জমি বিক্রি করে ঋণ আদায় করবে।

আর কোম্পানি ঠিকমতো ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করলেও তাকে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। কিন্তু কোম্পানি ওই ১০ কোটি টাকা শেয়ার মার্কেট থেকে সংগ্রহ করলে তাকে কোনো জমি জামানত দিতে হচ্ছে না।

কোম্পানি যদি প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে তাহলে এক লাখ শেয়ার হবে এবং কমপক্ষে কয়েক হাজার মানুষ এ শেয়ারগুলোর মালিক হবে। কোম্পানি যদি বছর শেষে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে তাহলেও কোম্পানির ৫ শতাংশ টাকা অতিরিক্ত লাভ হলো। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ১৫ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হতো।

অন্যদিকে কোম্পানি যদি মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান না করে, তবু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া বা মামলা করার সুযোগ কম। কারণ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা কয়েক হাজার, যারা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এবং যাদের কোনো প্লাটফর্ম নেই। এমনকি কেউ কাউকে চেনেনও না।

তাই তারা কোম্পানির বিরুদ্ধে একত্র হওয়ার সুযোগ পান না। আবার তারা ১ হাজার টাকা বা এর গুণিতক সংখ্যক শেয়ারমূল্যের জন্য অথবা এর লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য মামলা করতে যান না। তারা এ ক্ষতিটাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেন। এ সুযোগে কোম্পানিটি লভ্যাংশ প্রদান না করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এ প্রবণতাও আমাদের শেয়ারবাজারে কমবেশি বিদ্যমান। শেয়ারবাজারের অস্থিরতার জন্য এটাও অনেকাংশে দায়ী।

শেয়ারবাজারে জড়িতদের অধিকাংশই  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ একটি পক্ষ কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে এবং মাঝখান থেকে মুনাফা করে শেয়ার মার্কেট থেকে বেরিয়ে পড়েছে।

এ কারণে শেয়ারবাজারকে গতিশীল করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং তা গতিশীল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার স্বার্থেই শেযারবাজারকে গতিশীল করতে হবে। ফটকাবাজদের হাত থেকে একে রক্ষা করতে হবে।

কেউ যাতে কোনোভাবেই বাজারকে কৃত্রিমভাবে ম্যানিপুলেট করতে না পারে, সেজন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে। শেয়ারবাজারের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। শেয়ারবাজারকে পুনর্গঠন করতে হবে।

আর যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন, তাদের উচিত এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। আর তাড়াতাড়ি ধনী হওয়ার প্রবণতা বাদ দিতে হবে। কারণ না বুঝে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়ার চেষ্টায় শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে তার পরিণতি শুভ হবে না। মনে রাখতে হবে, শর্ট টার্ম গেইন মানে লং টার্ম পেইন।

জালাল উদ্দিন ওমর

নিবন্ধকার

ওষুধে ভেজাল, সংশয়ে জীবন

অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভে আমরা ওষুধ খাই। ওষুধের যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ সেবন অত্যন্ত জরুরি। সেখানে ভেজাল, নিম্নমান বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগমুক্তিতে তো কোনো ভূমিকা রাখেই না, বরং ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ প্রাণঘাতী রোগের জন্ম দেয়।

ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা দুজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করি। প্রথমত. ডাক্তার এবং দ্বিতীয়ত. ওষুধ বিক্রেতা। আমরা ধরেই নেই, ডাক্তার আমাদের রোগের বিপরীতে সঠিক ওষুধ লিখছেন এবং ওষুধ বিক্রেতা আমাদের মানসম্পন্ন ওষুধ দিচ্ছেন। অর্থাত্ আমাদের জীবনের ভার আমরা তুলে দেই এ দুই ব্যক্তির ওপর।

এখন প্রশ্ন হলো, যাদের ওপর দায়িত্ব দেয়া হলো, তারা কতটুকু সত্ ও নিষ্ঠাবান? ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সঠিক চিকিত্সা না করতে পারার অভিযোগ ওঠে প্রায়ই। তবে ইদানীং যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে তা হলো, অনেক ওষুধের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ভেজাল, নিম্নমান বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

হয়তো চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো দোকানে ওষুধ কিনতে গেলেন। বিক্রেতা আপনাকে ওষুধ দিলেন। ওই ওষুধের পুরো প্যাকেট যদি কেনেন বা ওষুধটি যদি বোতলজাত হয়, তবে তার গায়ে লেখা মেয়াদ দেখে আপনি তা যাচাই করতে পারেন। কিন্তু ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সাধারণত ট্যাবলেটের গায়ে নয়, বরং এর প্যাকেটে মেয়াদের উল্লেখ থাকে।

সুতরাং আপনি যখন এক বা কয়েক পাতা বা কয়েকটি ট্যাবলেট কিনছেন, তখন মেয়াদ সম্পর্কে জানতে পারছেন না। কারণ ওষুধের দোকানে গিয়ে মেয়াদ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার রেওয়াজ আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। আমরা ধরেই নেই, বিক্রেতা সঠিক ওষুধটিই দিচ্ছেন।

ওষুধ বিক্রেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই ওষুধ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। আসল না নকল, তা নির্ণয়ের জ্ঞান থাকতে হবে। এক্ষেত্রে নকল ওষুধ বিক্রির দায় বিক্রেতা ও উত্পাদনকারীদের সমান। অন্যদিকে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, দেশের প্রতিষ্ঠিত ওষুধ উত্পাদনকারী কোম্পানির ওষুধ হুবহু নকল হওয়া।

স্কয়ার, এসিআই, বেক্সিমকো ও এসকেএফের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ওষুধ নকল করে অবিকল মোড়কে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাত্ আপনি হয়তো ভেজাল বা নিম্নমান এড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধ কিনলেন, কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলোও নকল। এ পরিস্থিতির জন্য বিক্রেতা তার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, পরিচিত ওষুধের প্রায় কাছাকাছি নামের নিম্নমানের ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়। গরিব বা স্বল্পশিক্ষিতদের হাতে বিভিন্ন উপায়ে, বিশেষ করে কম দামের কথা বলে এসব নিম্নমানের ওষুধ গছিয়ে দেন বিক্রেতারা। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা প্রায়ই যা বলেন তা হলো— একই ওষুধ, কাজও একই, তবে দাম কম। সরল বিশ্বাসে ক্রেতারা তা কেনেন।

অনেক বিক্রেতা আবার ক্রেতা বুঝে ওষুধ দেন। যেমন যে লোককে দেখে শিক্ষিত বা উচ্চপদস্থ মনে হয়, তাকে সঠিক মানের ওষুধ দেন। আবার কোনো গরিব বা অসহায় লোক, যাদের কথা সমাজে স্থান পায় না, তাদের হাতে গছিয়ে দেন নিম্নমানের বা ভেজালটা।

নিম্ন বা ভেজাল ওষুধ উত্পাদনকারীরা নিজ কারখানা থেকে ক্রেতাদের কাছে ওষুধ বিক্রি করেন না। এসব ওষুধ বিক্রি হয় ফার্মেসির মাধ্যমে। সামান্য মুনাফার আশায় অনেক বিক্রেতা এসব ওষুধ রাখেন।

ওষুধের ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার সবচেয়ে বেশি হন গ্রামের সরল মানুষ। গ্রামে এ ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি। সরকারের ভেজাল ওষুধবিরোধী অভিযান সেখানে খুব একটা পৌঁছায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান শহর ও আশপাশে সীমাবদ্ধ থাকে। গ্রামের ভেতরে কী হচ্ছে, তা অনেক সময় অলক্ষে থেকে যায়।

ওষুধ বিক্রি একটি লাভজনক ব্যবসা। সেজন্য নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যে কেউ এ ব্যবসা শুরু করছেন। এটা সত্য যে, সব ওষুধ ব্যবসায়ী নীতিভ্রষ্ট নন। তবে অনেকেই সামান্য মুনাফার লোভ এড়াতে পারেন না। তাদের এ অর্থলোভ সংশয়ে ফেলছে মানুষের মূল্যবান জীবনকে, বিশেষ করে শিশুদের। মানহীন ওষুধের কারণে শিশুর মৃত্যু আমরা দেখেছি।

মানুষের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা ওষুধ বিক্রেতাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। যেসব বিক্রেতা এ দায়বদ্ধতার কথা ভুলে গেছেন, সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর

ব্যবস্থা নেয়া।

মোহাম্মদ তারেক

শিক্ষার্থী, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ইলিশ জাগাল নতুন আশা

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জাতীয় সম্পদ। দেশের মোট মাছ উত্পাদনের ১৩ শতাংশ, যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আসে ইলিশ থেকে। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ২ শতাংশ।

প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি এবং ২০-২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ইলিশ আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। দেশে মত্স্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে ইলিশের অবদান ১২ শতাংশ। প্রতি বছর ইলিশ রফতানি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

বছরের পর বছর নিরলস ও শ্রমলব্ধ গবেষণায় পাওয়া তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ইলিশের পোনা জাটকা অবাধে নিধন এবং ডিমওয়ালাসহ নির্বিচারে ইলিশ আহরণই এ মাছের চরম সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ। বিজ্ঞানীরা ইলিশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং এর ওপর ভিত্তি করে ইলিশ রক্ষার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ উপস্থাপন করেন।

তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সরকার আইন করে জাটকা মৌসুমে জাটকা নিধন এবং ডিম ছাড়ার দিনগুলোয় ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা বন্ধের নির্দেশ জারি করে। এর পর শুরু হয় জাটকা নিধন বন্ধে অভিযান ও জনসচেতনতা সৃষ্টির পরিকল্পিত কার্যক্রম। জাটকা নিধন ও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ করা না গেলেও প্রতি বছর এ মাছ আহরণের পরিমাণ বাড়ছে।

মাছ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইলিশ পাওয়া যায় বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই এর উত্পাদন ক্রমে বাড়ছে। বাকি ১০টিতে ইলিশ উত্পাদন কমছে।

বাংলাদেশে ইলিশ উত্পাদন প্রতি বছর ৮-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড ফিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে উত্পাদিত মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশই বাংলাদেশের। বাদবাকি ১৫ শতাংশ ভারত, ১০ শতাংশ মিয়ানমার এবং বাকি ১০ শতাংশ আটলান্টিক, প্রশান্ত ও আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলোয় উত্পাদিত হয়।

নদী গবেষণা কেন্দ্রের এক তথ্যে জানা গেছে, দেশের ১৫টি জেলা, ৮৫টি উপজেলা ইলিশ উত্পাদনে অন্তর্ভুক্ত। ইলিশ উত্পাদন বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে, জাটকা রক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা এবং অভয়াশ্রমগুলোয় মা-মাছ আহরণ বন্ধ রাখা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে

৯ শতাংশ, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১০, ২০০৮ সালে ৩৮, ২০০৯ সালে ১৭, ২০১০-এ ৩৩, ২০১১ সালে ৩৬, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪৪ ও ২০১৩-১৪ সালে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশাল মত্স্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, দেশের ১০০টি নদীতে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও ইলিশের প্রজনন

ও পরিপক্বতা দক্ষিণাঞ্চলের নদীতেই হয়। দেশে মোট উত্পাদিত জাটকার ৬০-৭০ শতাংশ দক্ষিণের বিষখালী, পায়রা, আগুনমুখা, বুড়িশ্বর, বলেশ্বর ও কীর্তনখোলা নদী থেকে আহরণ করা হয়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল— এ চার মাসেই মোট জাটকার ৪৫-৬৫ শতাংশ নিধন করা হয়।

২০০২ সাল থেকে ইলিশের ডিম পাড়া ও বিচরণের স্থানগুলো চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। সে স্থানগুলোয় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ। তাছাড়া ডিম পাড়ার ১৫ দিন সব ধরনের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ।

ইলিশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন— এমন ১৫টি জেলার ২ লাখ ২৪ হাজার ১০২ জেলেকে পরিচয়পত্র দিয়ে তাদের বছরে তিন মাস সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। আমাদের ইলিশ রক্ষার এ কৌশল খুবই কার্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অন্য দেশের কাছে। জাটকা নিধন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হওয়ায় এ সাফল্য এসেছে।

জাটকা নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রতি বছর ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি পরিপক্ব ইলিশ আহরণ সম্ভব হবে। ফলে বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি হবে। আহরিত ইলিশের সামান্য পরিমাণ রফতানি করে প্রতি বছর ১৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

জানা গেছে, প্রতি বছর ভারত ও মিয়ানমারে ইলিশ রফতানি হয় ৮-৯ হাজার টন। ৮০০ থেকে ৯০০ টন রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে। উল্লেখ্য, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশ উত্পাদন হয় প্রায় ৩ লাখ টন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সাড়ে ৩ লাখ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ টন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় মাছ ইলিশ বলে কথা। এক হিসাবে দেখা গেছে, মৌসুম ছাড়া এক জোড়া ইলিশ কিনতে প্রথম শ্রেণীর এক কর্মকর্তার বেতনের ১০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়— এজন্যই বাঙালির রসনা-পার্বণে ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে ঠাঁই নিয়েছে ইলিশ। বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত

পরিবারে এক মাসে ১ হাজার টাকার বেশি মাছ কেনার সামর্থ্য কার আছে! উত্পাদন বাড়লেও দিন দিন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ। কেজিদরে ইলিশ কেনার সামর্থ্য খুব কম পরিবারেরই আছে।

এস এম মুকুল

উন্নয়ন গবেষক

writetomukul36@gmail.com

ছিন্নমূলদের আবাসন

নিশ্চিতে করণীয়

দেশে ভূমি অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি অনেক সম্পত্তি আজ ভূমিদস্যুদের দখলে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ছিন্নমূল বস্তিতে বাসরত নিম্নআয়ের মানুষগুলোকে সরকারি এসব সম্পত্তিতে পুনর্বাসন করলে নগরায়ণের চাপ কমবে।

নিম্নআয়ের মানুষ যেমন নগরায়ণের বোঝা, অন্যদিকে বিভিন্ন বস্তিতে অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে বাস করতে গিয়ে নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপেও জড়িয়ে পড়ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে শহরের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে।

সন্দেহ নেই, বেদখলকৃত রাষ্ট্রীয় ভূমি দেশের স্বার্থে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করে ছিন্নমূল বাস্তুহারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহনীয় কিস্তির মাধ্যমে বণ্টন করে আবাসন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এক জরিপে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে ছোট বড় বস্তির সংখ্যা ৮৩টি। এখানে পরিবার আছে ৪৮ হাজার। তার মধ্যে ১৩ হাজারের মতো প্রভাবশালী বসবাস করছে। সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে রয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবার।

এখানে প্রকৃত ছিন্নমূল রয়েছে দেড় হাজার। বাকিরা বিত্তশালী। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল ছলিমপুরে সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত ২ হাজার ১০০ একর খাসভূমি ও পাহাড় কেটে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে প্লট বেচাকেনা অব্যাহত রেখেছে একটি মহল।

এ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধান ও ভূমি সঞ্চয় সম্ভব। এতে শহর ও জেলার আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, অপরাধ প্রবণতা বন্ধ, পরিকল্পিত নগরায়ণ বাস্তবায়ন করাও সম্ভব হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগর ও জেলা সরকারি খাসভূমি একশ্রেণীর ভূমিদস্যু কর্তৃক দখল ও  বেচাকেনা বন্ধ হবে। সাধারণ মানুষ ভূমিদস্যুদের হাত থেকে প্লট বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকার আর্থিক প্রতারণা থেকে মুক্তি পাবে।

জঙ্গল ছলিমপুর ও শহরতলীর এসব সম্পত্তি দখল করে ভূমিদস্যুরা ২০০৩ সাল থেকে প্রশাসন ও সরকারের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে প্লট বেচাকেনা অব্যাহত রেখেছে। ছলিমপুর ইউনিয়নে প্রতিটি প্লটে হোল্ডিং নাম্বার দিয়ে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া কয়েক বছরে এ পাহাড়ি স্থানে প্লট বিকিকিনিতে হাজার হাজার সরকারি বৃক্ষও উজাড় হয়েছে।

চট্টগ্রামের বৃহত্তম ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আবেদন করে আসছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

আমাদের ভাবা উচিত চট্টগ্রাম নগরীতে ছিন্নমূল পরিবারদের পরিবেশসম্মতভাবে বসবাস করার সুযোগ না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে সামাজিক অবক্ষয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, অপরাধ প্রবণতাসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপ। এর ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হচ্ছে আগামী প্রজন্ম। ফলে নগরায়ণে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ।

ছলিমপুরে প্রভাবশালী একটি চক্র সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ জবর দখল করে তাদের অপতত্পরতা চালিয়ে অপরাধ প্রবণতায় উত্সাহ দিচ্ছে। তবে ভূমিদস্যুদের হাতে চলে যাওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে বৃহত্ জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধান করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ধসে জানমাল ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষাসহ সার্বিক উন্নতি ঘটবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

২০০৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ এ এলাকার ৪০০ একর ভূমি হুকুম দখল করে। পাশাপাশি সব ছিন্নমূল বাস্তহারা পরিবার সরকারি উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাদের আশ্রয়ের আবেদন করে আসছে।

এ প্রস্তাবনার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ১৩ জন মন্ত্রী-এমপির সুপারিশও রয়েছে। এ কয় বছরে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ বার স্মারকলিপি, পাঁচবার সংবাদ সম্মেলন, ১৩৪টি সভা করা হয়েছে শুধু ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য। আমি মনে করি, ছলিমপুরে বেহাত হওয়া ভূমির মধ্যে চার

একর ভূমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে বহুতল ভবনের মাধ্যমে ৩৭ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করা সম্ভব। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার হবে, নগরায়ণের চাপ কমবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ছিন্নমূলদের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে।

 

জি এ মোস্তফা কামাল

সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ

সূত্র: বণিক বার্তা