দায়ী দীর্ঘসূত্রতা : রূপালী

Print Friendly, PDF & Email

দেশে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আসছে না প্রয়োজনীয় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। এ জন্য প্রধানত বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের অভাব এবং অবকাঠামো দুর্বলতাকে দায়ী করছেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী।

তিনি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ উদ্যোক্তা মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, যানজট, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ইত্যাদি সমস্যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একেকটি বাধা হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

রূপালী চৌধুরী বলেন, বিদেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে আসার পর অনেক সময় জটিলতার পড়ে। কোন ধরনের ব্যবসা করবে, কোন এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলবে, জমি পাবে কোথায়, জমি নিবন্ধন করবে কিভাবে, ব্যাংক ঋণ পাবে কিভাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা, কী কী রাজস্ব সুবিধা পাবে, এর জন্য কার কাছে যেতে হবে-এ জাতীয় অনেক কাজ করতে হয় বিনিয়োগকারীকে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোতে এসব কাজ খুব সহজে এবং অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এসব কাজে বেশির ভাগ সময় দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হয় বলে মনে করেন রূপালী চৌধুরী। তাঁর মতে, বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হয়, ফাইল চালাচালি চলতে থাকে।

এসব ভোগান্তিতে অনেক সময় বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ জাতীয় অভিজ্ঞতার কথা বিদেশি বিনিয়োগকারী অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীকে জানালে তখন দ্বিতীয়জনও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একই অবস্থা হচ্ছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে।

পুরনো বিনিয়োগকারীর কাছে নানা হয়রানির কথা শুনে নতুন বিনিয়োগকারী পিছিয়ে যাচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠাগুলোর কাজের ধারা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বা বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় থাকা একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠান রয়েছে বাংলাদেশে।

নতুন করে প্রতিষ্ঠান তৈরি না করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আছে সেগুলো আরো গতিশীল করতে হবে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। কোন কাজ কত দিনে শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে সময় বেঁধে দিতে হবে।

একটির সঙ্গে অন্যটির সমন্বয় বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ পিছিয়ে রাখতে যানজট বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা এমন মত জানিয়ে রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাতে দুই-তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। মতিঝিল থেকে উত্তরায় ফিরে আসতে একই সময় প্রয়োজন হলে চার-পাঁচ ঘণ্টা একটি কাজ করতে ব্যয় হবে।

আট ঘণ্টা অফিস সময়ের মধ্যে আমি যদি ন্যূনতম চার ঘণ্টাও রাস্তায় ধরি, তাহলে কিভাবে কাজ করা যাবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতেও সময় চলে যায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা। এসব সমস্যায় দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব পরিস্থিতি মেনে নিতে চায় না। তারা অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে অভ্যস্ত। যানজট কাজের সময় কেড়ে নিচ্ছে। যানজট বাংলাদেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

ব্যাংক সুদ এবং রাজস্বের হার কমানোর সুপারিশ জানিয়ে রূপালী চৌধুরী বলেন, যেকোনো কাজ সহজ করতে হবে। ব্যাংকঋণ পাওয়ায় জটিলতা দূর করতে হবে এবং সুদের হার কমাতে হবে। ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

এর পাশাপাশি রাজস্বের হার কমাতে হবে এবং রাজস্ব প্রদান পদ্ধতি সহজ করতে হবে। দেশে বিনিয়োগ সহজ এবং নিরাপদ করা হলে দেশের অর্থ দেশে রেখে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে উদ্যোক্তারা।

জ্বালানি সংকট বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে জানিয়ে রূপালী চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে কারখানা উৎপাদনমুখী করা সম্ভব হয় না। উৎপাদনে না গেলেও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

সুদের অর্থ দিতে না পারলে আবার ঋণের বোঝা বাড়ে। এতে উদ্যোক্তাদের পুঁজি ভাঙতে হয়। একসময় ধার-দেনা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই সময়মতো বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

কালের কন্ঠ