কে নির্মাণ করেছিলেন ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ?

Print Friendly, PDF & Email

কয়েক শতাব্দী প্রাচীন কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মত। কেউ বলেন, অলৌকিক উপায়ে মাটি ফুঁড়ে তৈরি হয়েছিল, আবার কারো মত মোঘল আমলে বানানো হয়েছিল এটি। এমনকি মসজিদটি নিয়ে কোনো ইতিহাস বা পুস্তকও নেই। তবে কেউই নিশ্চিত নন নিজেদের মত নিয়ে।

ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই মসজিদ। স্থানীয় অনেকের মতে, ‘বহু বছর আগে অলৌকিকভাবে মসজিদটি মাটি থেকে ফুঁড়ে ওঠে। সেই থেকে মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ ও ইবাদত-বন্দেগি করে আসছেন মুসলিম সম্প্রদায়। ওই সময় থেকে মসজিদ তৈরির কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এটি দেখতে আসতেন অনেকে।’

অনেকে দাবি করেন, ‘প্রায় ১১শ’ বছর আগে ইরাক থেকে শাহ সুফি আদারি মিয়া ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও বাগেরহাট এলাকায়  ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন। এর মধ্যে তিনি ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার মধ্যবর্তী ঝাউদিয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।’

কথিত আছে, ‘তিনিই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন এবং গোটা অঞ্চলে ধর্ম প্রচার করে আদারি মিয়ার মৃত্যুর পর মসজিদসংলগ্ন এলাকায় তাকে কবর দেওয়া হয়।’ তবে ওই স্থানে তার কোনো বংশধর নেই বলে স্থানীয়রা জানান।

তার কবর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় একটি মাজার কমিটি।

এছাড়াও মসজিদ তৈরি নিয়ে রয়েছে আরও মতভেদ। মসজিদের প্রবেশদ্বারে লেখা আছে ‘এটির বড় পরিচয় মানুষের তৈরি এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হয় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে’। কিন্তু ওই সময় কে নির্মাণ করেছে তার কোনো উল্লেখ নেই।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরাও এর উৎপত্তি সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। মসজিদটি ইট, পাথর, বালি ও চীনামাটির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি। এর উপরিভাগে সুদৃশ্য ৫টি গম্বুজ ও ভেতরে প্রবেশ দরজায় দু’টি মিনার রয়েছে। এটি অপূর্ব শৈল্পিক কারকার্য সংবলিত। সহজেই মুগ্ধ করার মতো। বর্তমানে এটির পরিচর্যা করছে সরকারের জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর।