‘সময় আসবে, কেউই সরকারের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করবে না’

Print Friendly, PDF & Email

মারুফ আহমেদ : সরকারের ফেসবুক বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই পক্ষে বিপক্ষে মত প্রকাশ করছেন অনেকেই। আর মত প্রকাশের জায়গাটাও সেই ফেসবুক। বন্ধ রাখার ঘোষণা আসলেও বিকল্প কায়দায় ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক। সরকারি আমলা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এমনকি ফেসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যিনি সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম খোদ তিনি নিজেও বিরত থাকেননি ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে।

এদিকে, ফেসবুক বন্ধ থাকলেও সেই ফেসবুকে নিজের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করে চলেছেন অনেকে। সোমবার দুপুরে সিনিয়র সাংবাদিক প্রভাস আমীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও মানুষ বিকল্পভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন।

সরকার অনেক হুমকি দিয়েও মানুষকে আটকাতে পারছে না। এমন একটা সময় আসবে, কেউই আর সরকারের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করবে না। ফেসবুক খুলে দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার সুযোগও হয়তো পাবেন না প্রিয় অভিনেত্রী, প্রিয় নেত্রী, মাননীয় মন্ত্রী তারানা হালিম। স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো :

‘ফেসবুকের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত বিএনপির অবরোধের পরিণতি পাবে বলে মনে হচ্ছে । ৯৩ দিন নিজে গুলশানের অফিসে আর সারাদেশকে আতঙ্কে অবরুদ্ধ রেখে বেগম খালেদা জিয়া কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাসায় ফিরে গিয়েছিলেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহারের সুযোগও পাননি। সরকার গত ১৮ নভেম্বর থেকে ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু সেদিন থেকেই কিছু লোক প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহার করছে। আমি একদিন পর থেকে ব্যবহার করছি।

প্রতিদিনই বিকল্প পথে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকার অনেক হুমকি দিয়েও মানুষকে আটকাতে পারছে না। এমন একটা সময় আসবে, কেউই আর সরকারের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করবে না। ফেসবুক খুলে দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার সুযোগও হয়তো পাবেন না প্রিয় অভিনেত্রী, প্রিয় নেত্রী, মাননীয় মন্ত্রী তারানা হালিম।’

এর আগে বিকল্প পদ্ধতিতে তিন জন ফেসবুক ব্যবহারকারিকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মত প্রকাশ করেন। চলতি মাসের ৪ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকাতে প্রকাশিত ‘বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহার করে সরকার বিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে ৩ জন গ্রেফতার’ এই শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে লেখা তার ঐ স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো :

এই নিউজটা পড়ে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, এই তিনজনের অপরাধ কী, সরকারবিরোধী প্রচারণা, ফেসবুক ব্যবহার নাকি প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার? প্রথম কথা হলো, সরকার বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করেছে, নিষিদ্ধ করেনি।

আর ফেসবুক বা কোনো সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা উস্কানি দেয়া সবসময়ই অপরাধ; ফেসবুক বন্ধ থাকলেও, চালু থাকলেও। দ্বিতীয়ত প্রক্সি সার্ভার দিয়ে বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহারও নিশ্চয়ই বে আইনী বা অপরাধ নয়। বাকি থাকলো সরকারবিরোধী প্রচারণা।

কবে থেকে বাংলাদেশে সরকার বিরোধী প্রচারণা বে আইনী বা নিষিদ্ধ হলো? বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সরকারের যে কোনো কাজের যে কোনো সমালোচনা করার অধিকার যে কোনো নাগরিকের আছে।

প্লিজ রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা আর সরকারবিরোধী প্রচারণাকে গুলিয়ে ফেলবেন না। যদি শুধু ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোটাই অভিযোগ হয়, তাহলে অবিলম্বে এই তিনজনের মুক্তি দাবি করছি। কারণ তারা কোনো অপরাধ করেনি।