নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতা ও ক্ষমতা

Print Friendly, PDF & Email

মায়া-মমতায় জড়াজড়ি করি মোর দেহখানি রহিয়াছে ভরি’- বাংলাদেশের সমাজচিত্র যেভাবে এঁকেছেন কবি, আজ সেখানে কী নির্মম ছবি! বাংলাদেশের আজন্ম দুঃখ-কষ্ট, শোক-সন্তাপ এবং চরম দারিদ্র্যের কশাঘাত সত্ত্বেও ‘আমগাছ, জামগাছ, বাঁশঝাড় যেন মিলেমিশে ছিল তারা আত্মীয় হেন’।

কবিগুরুর ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলো’তেও আজ অশান্তি, অরাজকতা, নিষ্ঠুরতা এবং পাশবিকতার ছায়া। জাগতিক অগ্রগতির সাথে সাথে মানবিকতার বিকাশ ঘটেনি।

বরং ‘কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য’ আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ধরেছে। এ যেন মনীষী হবসের ‘প্রকৃতির রাজ্যে’ ফিরে যাওয়া। ‘স্বার্থপর, হীনম্মন্য, নিঃসঙ্গ, নৃশংস, জঘন্য এবং সঙ্কীর্ণ’ মনোভঙ্গির নিকৃষ্ট প্রদর্শনীতে পরিব্যক্ত সমাজজীবন। নব্য জাহিলিয়াতের আবির্ভাব যেন হয়েছে বাংলাদেশে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, পাশবিকতার যে প্রকোপ বাংলাদেশে বহমান, তাতে বিচলিত বিবেকসম্পন্ন সব মানুষ। তার সাথে ক্ষমতাদর্পী মহলের যে যোগসাজশ, তথা বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা সমাজের আস্থা বিশ্বাসকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে।

দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন যা এত দিন রাজার ধর্ম বলে আমরা শুনে এসেছি, এখন তা উল্টো হয়ে শিষ্টের দমন, দুষ্টের পালন রাজার ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আমাদের আস্থা অথবা অনাস্থার মাধ্যমে যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেছি তা এখন ফুলে ফলে সুশোভিত (!) হয়ে আমাদের সমাজশরীরকে বিষাক্ত করে তুলেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সমাজনীতি কতটা কলুষিত হয়েছে তার একটি হিসাব-নিকাশ নেয়ার জন্য আমরা শুধু এক দিনের সংবাদচিত্রের প্রতি তাকাতে পারি।

১৮ আগস্ট প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ এ রকম : এবার কিশোরকে পিটিয়ে মারলেন ছাত্রলীগ নেতারা। বাড্ডায় তিন খুন, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হত্যা। জড়িত আটজন।

রাজধানীতে দুই গৃহবধূ খুন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- এক ছাত্রকে পেটালেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। টঙ্গীবাড়িতে প্রতিপক্ষের সাতটি বাড়ি পুুড়িয়ে দেয়া হলো।

সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ। গাজীপুরে গণধর্ষণ স্কুল ছাত্রীকে। গোপালগঞ্জে স্কুল ছাত্রকে গলা কেটে হত্যা। চট্টগ্রামে র্যাবের ক্রসফায়ারে একজন নিহত।

পলাশে গৃহবধূকে গণধর্ষণ। দাউদকান্দিতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়েছে সন্ত্রাসীরা : বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট। এ ক’টি শুধু প্রধান প্রধান সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর।

হয়তো আরো খবর আছে অন্য সংবাদপত্রে। আবার সারা দেশের সব খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, এমনটি নিশ্চয়ই নয়। কয়েকটি প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে যদি সারা দেশের অবস্থা অনুমান করা যায়, তাহলে কী ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে তা সহজেই অনুমেয়।

বর্তমানে যা আমাদের হৃদয়কে অধিকতর ব্যথিত করেছে তা হচ্ছে, শিশু-কিশোরদের প্রতি নির্মম, নিষ্ঠুর ও পাশবিক আচরণ।

ক. বিগত ৮ জুলাই তেরো বছরের কিশোর সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। শিশু সামিউলকে চোর অপবাদ দিয়ে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে একটি খুঁটিতে বেঁধে পাঁচ-ছয়জন নির্যাতন চালায়।

সামিউলের শরীরে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। টানা নির্যাতনের কারণে মতিষ্কে রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়। বাঁচার জন্য শিশুটির কোনো আকুতিই মন গলাতে পারেনি সন্ত্রাসীদের। একপর্যায়ে সামিউল তাদের কাছে একটু পানি চাইলে তারা পানি না দিয়ে শরীরের ঘাম খেতে বলে।

সবচেয়ে নিদারুণ বিষয় এই যে, প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফেসবুকে দিতেই নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়। কী নির্মম, পাশবিক মন হলে নির্যাতনের চিত্র দিয়ে নির্মম আনন্দ লাভ করা যায় তা সহজেই অনুমেয়।

নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলেটিকে যখন এভাবে অত্যাচার করা হয়, তখন কেউ বাধা দেয়নি। পরে অবশ্য প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মামলা ইত্যাদি সবকিছু হয়েছে।

নির্যাতনের ঘটনা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা কেউ আসেনি। পরে অবশ্য দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। মজার ব্যাপার, দায়িত্বহীনতার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের একজনকে মামলার বাদী এবং অপরজনকে সাক্ষী বানানো হয়।

খ. ১৩ আগস্ট রাতে খুলনায় পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয় বারো বছরের কিশোর মো: রাকিবকে। অভাবের তাড়নায় স্কুলের পড়া ছেড়ে গ্যারেজে কাজ নিয়েছিল শিশু রাকিব।

কিন্তু কাজ করেও ঠিকমতো পয়সা পেত না। চুন থেকে পান খসলেই গালাগালি, মারধর। কোমল মন ছোট্ট দেহে তা সইছিল না। পরে আরেকটি গ্যারেজে কাজ নেয় সে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আগের গ্যারেজ মালিক ও তার সহযোগী রাকিবকে ধরে মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেয়ার কম্প্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে দেয় তার মলদ্বার দিয়ে।

এরপর চালু করে দেয়া হয় কম্প্রেসর। নল দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকে শিশুটির দেহ ফুলে প্রায় বড়দের মতো হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি। ফেটে যায় ফুসফুস। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়।

গ. ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে গত ৩ আগস্ট রাতে সুটকেসের ভেতরে থাকা একটি ছেলে শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুকে ও কপালে ছ্যাঁকার দাগ রয়েছে।

পিঠে পাঁচ ইঞ্চির মতো গভীর জখম। থুঁতনিতেও গভীর জখমের চিহ্ন ছিল। শিশুটির বয়স আনুমানিক নয় বছর। কয়েকজন পথচারী সুটকেসটি দেখে উৎসুক হয়। পরে চেইন খুলে শিশুর লাশ দেখে আঁতকে ওঠেন তারা। খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, শিশুটি কোনো বাসায় কাজ করত।

তাকে বেশ কয়েক দিন ধরে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা ও খুন্তি দিয়ে জখম করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। শরীর দেখে মনে হয়েছে তাকে বেশ কয়েক দিন খাবারও দেয়া হয়নি।

পুলিশের অনুমান, অত্যাচার নির্যাতনের পর শিশুটি মারা গেলে তাকে সুটকেসে ভরে মেডিক্যাল এলাকায় ফেলে দেয়া হয়। শিশুটির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

ঘ. ৪ আগস্ট আরেকটি নির্মম নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। ১০ বছরের মাদরাসা ছাত্র রবিউলকে মাছ চুরির অভিযোগে প্রথমে চোখ উঠিয়ে নেয়া হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার আমখোলা গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মাছ চুরির অপবাদে স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুটিকে বীভৎস কায়দায় মেরে ফেলেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পুলিশ বলেছে, শিশুটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

ঙ. গত ২৩ জুলাই মাগুরায় ঘটে আরেক অঘটন। ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় নিজের ঘরের বারান্দায় বসেছিলেন এক মা। তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তার পেটে যে শিশুটি নিরাপদ ছিল সেও মায়ের সাথে গুলিবিদ্ধ হয়। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

চ. এবার বীভৎসতার ঘটনাস্থল মাদারীপুর। সেখানে দুই স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

১৩ আগস্ট সংঘটিত এ ঘটনার শিকার দুই ছাত্রী হলো সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপি আক্তার। তাদের বয়স মাত্র চৌদ্দ। দু’জনই মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।

নিহত শিক্ষার্থীদের দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুমাইয়া ও হ্যাপি বিকেলে স্কুলে কোচিং ক্লাস করতে গিয়ে এ অঘটনের শিকার হয়।

মাদারীপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চার যুবক তাদের অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে এনে বলে তারা বিষ খেয়েছে। উভয় ছাত্রী মারা গেলে চার যুবক পালিয়ে যায়। অভিবাবকদের অভিযোগ, ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে ওদের হত্যা করা হয়েছে।

ছ. গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর হাজারীবাগের গণকটুলীতে রাজা মিয়া নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগ, পাগলাটে স্বভাবের ওই কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া ও তার সহযোগীরা।

রাজার বাবা বাবুল মিয়া নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করেন। রাজার মা মারা যান দুই বছর আগে। তখন থেকেই পাগলাটে স্বভাবের হয়ে যায় সে। সে কিছু করত না। ঘুরেফিরে বেড়াত। ঠিকমতো খেত না। শরীর ছিল একেবারেই হাড্ডিসার। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা আরজু রাজাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

কেন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আরজু বলেন, তার মুঠোফোন চুরি হয়েছে। তিনি রাজাকে সন্দেহ করেন। পরে রাজার ফুফুসহ কয়েকজন আত্মীয় গিয়ে দেখেন রাজাকে মারপিট করা হচ্ছে। পরে বিকেলে একটি ভ্যানগাড়িতে করে তারাই রাজার নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

বিগত কয়েক সপ্তাহে সমাজে যে নির্মমতার ও নিষ্ঠুরতার প্রকাশ ঘটেছে তার মাত্র কয়েকটি ঘটনা আমরা দেখলাম। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলে এ সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে।

২০১২ সালে শিশু হত্যার সংখ্যা ছিল ২০৯, ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৮, ২০১৪ সালে এটি দাঁড়ায় ৩৫০ এ। ২০১৫ সালে জুলাই পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১। সুতরাং এ সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে ক্ষমতাবলয়ের সর্ম্পকও আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে।

সমাজে স্নেহ- মমত্ব ভালোবাসার পরিবর্তে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, পাশবিকতা জেঁকে বসেছে। বলতে গেলে রীতিমতো মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমেই যারা দেশের দায়িত্বে আছেন নিঃসন্দেহে তাদের কথা আসবে। তেঁতুলগাছ লাগিয়ে যেমন মিষ্টি আম খাওয়ার আশা করা যায় না, ঠিক একইভাবে একটি অনৈতিক সরকার থেকে নৈতিক আচরণ আশা করা যায় না।

যে সরকার ‘মিছিলে দেখা মাত্র’ গুলির আদেশ দেয়, যে সরকার ক্ষমতার মসনদকে নিষ্কণ্টক করতে শত শত মানুষকে হত্যা করে, পঙ্গু করে, গুম করে নিষ্ঠুরতাই যাদের অনুসৃত নীতি, তাদের সময় নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলা, মামলা, ছল-বল-কলা-কৌশল কত রকম এবং কত কায়দার হতে পারে বাংলাদেশের মানুষ বিগত সাত বছরে তা প্রত্যক্ষ করেছে। শাসক রাজনৈতিক দল এবং

সহযোগীরা মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান নিয়ে যা করছে তার ফলে সারা দেশে ভীতির রাজ্য কায়েম হয়েছে। উপস্থাপিত ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে যে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েও তারা হস্তক্ষেপ করছে না। তার মানে হস্তক্ষেপ করার পরে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ শঙ্কিত।

নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতার কারণ যে নিষ্পেষণমূলক শাসনব্যবস্থা তা ইতোমধ্যে আমাদের নাগরিক সমাজও চিহ্নিত করেছে। কাজী খলীকুজ্জমান বলেছেন, ‘কিছু বর্বর পৈশাচিকভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তমনা মানুষ ও

শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। এর কারণ সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে পালনে ঘাটতি ও অপরাধীদের বিচার না হওয়া।’ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, ‘দেশের মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে।

মেধার চেয়ে আনুগত্য প্রাধান্য পাচ্ছে। মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না। আইনের শাসন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। সেজন্য মানুষ দিন দিন হিংস হয়ে উঠছে। এ জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায়ী।

অপরাধ প্রমাণের পরও তাদের বিচারের আওতায় নেয়া হচ্ছে না। এতে প্রমাণিত হয় রাজনৈতিক আশ্রয় থাকলে কোনো অপরাধীকেই আইন স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। তা না হলে হত্যাকারীরা আরো উৎসাহী হয়ে উঠবে।’

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। বিশেষত উপসংহারে তিনি যে আইনের শাসনের কথা বলেছেন, তা সমাজ থেকে পাশবিকতা অবসানের রাজনৈতিক শর্ত। তবে শুধু সরকারের ওপর দায় দায়িত্ব চাপালে হবে না। এ পৈশাচিকতা বন্ধে নাগরিক দায়িত্বও রয়েছে।

সমাজকে বাংলাদেশের আবহমান লালিত ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিতে হলে, একটি নৈতিক বিপ্লবকে অনিবার্য করে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিশেষত নারী ও শিশু সহিংসতায় গভীরভাবে উদ্বিঘ্ন। সন্তানদের জন্য পিতৃমাতৃ হৃদয়ে আকুলতা ব্যাকুলতা স্বাভাবিক।

তাই আমাদের সম্মিলিত প্রার্থনা হোক,‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’আমাদের নাগরিকগণ থাকুক নিরাপদে।