ইসলামী অর্থায়ন নীতিমালা অনুমোদন দিচ্ছে আইএমএফ

Print Friendly, PDF & Email

ইসলামী অর্থায়ন নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে এ নীতিমালা আরো কঠোর করা ও তা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করার ব্যাপারে ব্যাংকারদের প্রতি সতর্কতা জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে আইএমএফ। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে এ বিষয়ে এ খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক আলোচনার আয়োজন করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, প্রকৃত অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল ও ফাটকা কারবারকে বিন্দুমাত্র সুযোগ না দেয়ায় চিরাচরিত ব্যাংক ব্যবস্থার তুলনায় এতে ঝুঁকি কম। আইএমএফের এ মূল্যায়নে বেশ জোর পাবেন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রবক্তারা।

প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, ‘সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে এ ব্যবস্থা। এর ঝুঁকি বণ্টন এবং সম্পদনির্ভর অর্থায়নের নীতিমালা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের মধ্যে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাবে।

একই সঙ্গে আকস্মিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিকেও নিরুত্সাহিত করবে এ ব্যবস্থা। তবে সুষ্ঠু ও সতর্ক নীতিমালার প্রয়োগ না হলে এর ফলাফল আশানুযায়ী হবে না এবং অর্থনীতিতে দেখা দিতে পারে অস্থিতিশীলতা।’

প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, ধারাবাহিক প্রয়োগের অভাবের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, শরিয়াহনির্ভর ব্যবস্থায় ব্যাংকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আইনি অধিকারের স্বচ্ছতার অভাব হলো এ ব্যবস্থার অন্যতম দুর্বল দিক।

এ নিয়ে বর্তমানে বাহরাইনভিত্তিক অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস (এএওআইএফআই) এবং মালয়েশিয়াভিত্তিক ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ড (আইএফএসবি) কাজ করে যাচ্ছে।

ইসলামী অর্থায়ন নিয়ে আরো কাজ করবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে এ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি সভায় এ নিয়ে একটি সম্মেলন হওয়ার কথা আছে।

এছাড়া নভেম্বরে কুয়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।