ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক

Print Friendly, PDF & Email
ইসলাম শ্রম ও শ্রমিকের যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সময় শ্রমজীবীকে পশুর মতো হাটবাজারে বিক্রি করা হতো। রাসূল সা: সেই সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন। রাসূল সা: সবসময় গরিবের সাথে থাকতেই পছন্দ করতেন। তিনি মনিব-গোলাম প্রথাকে ঘৃণা করতেন।
আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার সব আদম সন্তানকেই সম্মানিত করেছি আর কাউকে অন্যের ওপর বেশি মর্যাদা দিয়েছি’ (আল কুরআন; ১৭:৭০)। ইসলাম সব বৈধ পেশাকে উৎসাহিত করে এবং সব পেশার মানুষকে সমান সম্মান করে। সম্পদ, বংশ ও পেশার কারণে মানুষের মর্যাদা নিরূপিত হয় না। মানুষের  শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিরূপিত হয় নৈতিকতা, নিষ্ঠা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে (আল কুরআন; ৪৯:১৩)।
ইসলাম শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে মূলনীতি ও বিধান প্রবর্তন করেছে। হজরত আবু হুরাইরা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সা: বলেন, ‘সর্বোত্তম উপার্জন হচ্ছে মজুরের উপার্জন, যদি সে মনিবের সদিচ্ছা ও ঐকান্তিকতার সাথে সম্পন্ন করে’ (মুসনাদে আহমদ)।
পুঁজিবাদী সমাজে মালিকের সম্পত্তিতে অধিকার নেই শ্রমিকের। তাই একদিকে ধনীরা আরো ধনী, গরিব আরো গরিব হয়। শ্রমিকের সাথে মালিক ততটুকুই সম্পর্ক রাখে যতটুকু তার স্বার্থের জন্য দরকার। অন্য দিকে সমাজতান্ত্রিক সমাজে সম্পত্তির মালিক রাষ্ট্র। কিন্তু সেই সম্পত্তির সুষম ও ইনসাফভিত্তিক বণ্টন না হওয়ায় ক্রমেই বন্ধ হয় ব্যক্তি উদ্যোগ। আর বণ্টনব্যবস্থায় অদতার কুফল ভোগ করে মূলত শ্রমিক ও গরিব শ্রেণী।
ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হবে পিতা-সন্তানের মতো। নিজের পরম আত্মীয়ের মতো শ্রমিকের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ করা, পরিবারের সদস্যের মতোই তাদের আপ্যায়ন করা, শ্রমিকের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি মালিকের খেয়াল রাখা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি ল রাখা মালিকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সামান্য মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিতকারীদের ব্যাপারে রাসূল সা: বলেন, তাদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন অভিযোগ করা হবে। শ্রমিকের কাজে ফাঁকি দেয়া খুবই গর্হিত কাজ।
এ জন্য তাকেও কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে। আর শ্রমিক যদি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কারের ঘোষণায় রাসূল্লাহ সা: বলেন, ‘ওই শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক আদায় করে সে আল্লাহর হকও আদায় করে’ (মিশকাত শরিফ: হা/১১)।
হজরত আবু হুরাইরা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সা: বলেন, ‘যেই সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, হজ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকতো, তাহলে আমি শ্রমিক হিসেবেই মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করতাম’ (বুখারি শরিফ : হা/২৫৮৪)। বিশ্ব ইতিহাসে রাসূল সা: সর্বপ্রথম মানবিক শ্রমনীতি প্রণয়ন করেন।
ইসলাম মালিকের কাঁধে যেসব বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রমের মূল্য বা মজুরি। কুরআনে দেড় শ’ স্থানে ‘আজর’ তথা শ্রমের মূল্য বা বিনিময় শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রমের এই পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ইসলাম শ্রমিকের মজুরি বা পারিশ্রমিককেও পবিত্র ঘোষণা করে, উদ্বুদ্ধ করে, যাতে সব শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক দেয়াা হয়। সবই কর্মজীবনে পারস্পরিক বিনিময়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন সূরা কাসাসে হজরত মুসা আ:-এর ঘটনা বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর নারীদ্বয়ের একজন তার কাছে এসে বলল, আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন, যেন তিনি আপনাকে পশুগুলোকে পানি পান করানোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক দিতে পারেন।’ রাসূল সা: পারিশ্রমিক নির্ধারণ ছাড়া শ্রমিক নির্বাচন করে শ্রমিকের কাছ থেকে কাজ আদায় করাকে নিষেধ করেছেন।
শ্রমিক নিজের ওপর মালিকের দায়িত্ব নিয়ে এমন এক নৈতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, এ কাজ সে অর্থোপার্জনের জন্য করে না, বরং এর সাথে পরকালের সফলতা জড়িত বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। চুক্তি পূর্ণ করার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা প্রতিশ্র“তি পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’ (আল কুরআন; ২৮:২১৬, ৫:১)। শ্রমিকের দায়িত্ব চুক্তি মতো মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদনা করা।
রাসূল সা: বলেন, ‘ধনীর থেকে কারো পাওনা প্রদানে টালবাহানা করা জুলুম, আর যখন তোমাদের কোনো সম ব্যক্তির প্রতি ন্যস্ত করা হয় তখন সে যেন তা অনুসরণ করে’ (বুখারি : হা/২২৮৭)। অপর হাদিসে এসেছে মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিপক্ষে থাকব তার মধ্যে একজন হচ্ছে ওই ব্যক্তি যে কাউকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করার পর তার থেকে কাজ বুঝে নিয়েছে, অথচ তার প্রাপ্য দেয়নি’ (বুখারি : হা/২২২৭)।
হজরত আবু হুরাইরা রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের অধীনস্থ ব্যক্তিরা দাস-দাসী, শ্রমিক, কর্মচারীরা তোমাদের ভাই। সুতরাং আল্লাহ যে ভাইকে যে ভাইয়ের অধীন করে দিয়েছেন সে তার (শ্রমিকের) ভাইকে যেন তাই খাওয়ান যা সে নিজে আহার করেন, আর তাই পরিধান করান যা সে নিজে পরিধান করেন’ (আবু দাউদ : ২/৩৩৭)।
আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। অতএব ভাইয়ের সাথে সর্বদাই সদ্ভাব স্থাপন করবে’ (আল কুরআন; ৪৯:১০)। মালিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের এমন সব আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা মাধ্যমে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।
শ্রমিকদের আরেকটি প্রণিধানযোগ্য অধিকার হলো লভ্যাংশের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব দেয়া। কারণ শ্রমিকশ্রেণী উৎপাদনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও মুনাফা লুটে নেয় মালিকশ্রেণী। রাসূল সা: এই অমানবিক ব্যবস্থার প্রতি কুঠারাঘাত করে ঘোষণা করেন, শ্রমিকদের তাদের শ্রমার্জিত সম্পদ হতে অংশীদারিত্ব দিও। উৎপাদিত পণ্যে তথা মুনাফায় শ্রমিকের অংশীদারীত্ব ইসলামী শ্রমনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য কেননা পুঁজি ও শ্রমের মিলিত শক্তি উৎপাদন ঘটায়।
আধুনিক বিশ্ব যখন শ্রমিকের শ্রমকে পণ্যের সাথে তুলনা করেছে তারও শত শত বছর আগে রাসূল সা: উৎপাদিত পণ্যে শ্রমিকের অংশীদারিত্বের কথা বলেছেন। রাসূল সা: বহুদিন পর্যন্ত নিজের শ্রম বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভের অংশীদার হিসেবে মুদারাবার ভিত্তিতে হজরত খাদিজা রা:-এর ব্যবসায় শ্রম দিয়েছেন। রাসূল সা: বলেছেন, ‘মজুর ও শ্রমিককে তার শ্রমোৎপন্ন দ্রব্য হতে অংশ দিও’ (বুখারি)।
অনেক সময় শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিকেরা উপযুক্ত মজুরি দিয়ে ইচ্ছেমতো মজুরি দেন এবং শ্রমিকদের প্রবঞ্চিত করেন। শ্রমিকেরা তা নীরবে সহ্য করেন। এ ব্যাপারে রাসূল সা: বলেন, ‘কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তার মধ্যে একজন হলো ওই  ব্যক্তি যে শ্রমিকের কাছ থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার মজুরি প্রদান করে না’।
শ্রমিক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দেবে, এটি তার কর্তব্য। আর এ কর্তব্য সুচারুভাবে পালন করলে তার জন্য দ্বিগুণ পুণ্যের কথা রাসূল সা: বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হবে। তাদের জন্য একশ্রেণী হলো যে নিজের মালিকের হক আদায় করে এবং আল্লাহর হকও আদায় করে।
ইসলাম শ্রমিকদের বলে দিয়েছে, ‘যখনই সে মালিকের কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তখন যেন ন্যায়পরায়ণতা ও সততার সাথে করে, আর মালিকের সাথে সে যেন অযথা বাড়াবাড়ি করে না, মালিকের তিসাধন করে না। মালিকের সম্পদ তার কাছে আমানতস্বরূপ।
মালিকের কাজের স্বার্র্থ রা করে শ্রমিক যা উপার্জন করে তাই সর্বোত্তম (শরহে মিরআতুল ইসলাম)। তিনি শ্রমিকদের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন শ্রমের কাজ করবে তখন তা নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে করবে। এটিই আল্লাহ ভালোবাসেন’ (বায়হাকি)।
আল্লাহ বলেন, ‘যে লোক বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্পিত কাজ বা জিনিস বিনষ্ট করে তাকে আল্লাহ ভালোবাসেন না’ (আল কুরআন; ৪:১০৭)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তার দুষ্কর্মের জন্য দায়ী থাকবে। কেউ অপরের বোঝা বইবে না। তার কাজের পরীা হবে আর তাকে পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে’ (আল কুরআন; ৫৩:৩৯-৪০)।
ইসলামের আলোকে শ্রমনীতি হলো:
ক. মালিক-শ্রমিক পরস্পরকে ভাই ভাই মনে করবে।
খ. মৌলিক মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিক উভয়ের মান সমান হবে।
. কাজে নিযুক্তির আগে শ্রমিকদের সাথে যথারীতি চুক্তি হবে এবং তা যথাসময়ে পালিত হবে।
ঘ. শ্রমিকের অসাধ্য কাজ তার ওপর চাপানো যাবে না।
ঙ. শ্রমিকের স্বাস্থ্য, শক্তি ও সজীবতা বজায় রাখার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ের নিচে মজুরি নির্ধারণ হবে না।
চ. উৎপন্ন দ্রব্যের অংশবিশেষ শ্রমিকদের দান করতে হবে।
ছ. পেশা বা কাজ নির্বাচনের ও মজুরির পরিমাণ বা হার নির্ধারণ সম্পর্কে দর দস্তুর করার পূর্ণ স্বাধীনতা শ্রমিকের থাকবে। জ. অনিবার্য কারণ বা নিয়ন্ত্রণ ঘটনার বহির্ভূত ঘটনার পরিপ্রেেিত কাজে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটলে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন না চালানো।
ঝ. মালিকপ দুর্ঘটনা ও য় এড়ানোর সব প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।
ঞ. কোনো অবস্থায়ই শ্রমিকদের অসহায় করে ছেড়ে দেয়া যাবে না, অম ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে উপযুক্ত ভাতার ব্যবস্থা করা। ট. পেশা পরিবর্তনের অধিকার শ্রমিকের থাকবে।
ঠ. পরিবার গঠনের অধিকার শ্রমিকের থাকবে।
ড. স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের অধিকার শ্রমিকের থাকবে।
ঢ. স্থানান্তর-গমন-ছুটি নেয়ার অধিকার শ্রমিকের থাকবে।
ণ. স্বাস্থ্য সংরণ ও চিকিৎসার উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধি তখনই কেবল সম্ভব হবে যখন শ্রমিকের প্রতি ইসলামের উদার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবে রূপ নেবে। কারণ ইসলামে শ্রম যদি হয় ব্যক্তির দায়িত্ব, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি ব্যক্তির জন্য কর্মের সংস্থান করা। ব্যক্তির যদি দায়িত্ব হয় কাজে নিষ্ঠার পরিচয় দেয়া, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পদ ও মালিকানায় সুষম বণ্টন করা। কাজ যদি হয় উৎপাদনের প্রধান স্তম্ভ তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো।
শ্রমিক যদি হয় প্রকৃত সম্পদ, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব খেটে খাওয়া লোকগুলোর ওপর চলমান জুলুম বন্ধ করা। তাদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করা। শ্রমিক যদি হয় খেটে খাওয়া শ্রেণী, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইসলাম মানুষের কাজ করার অধিকার এর সাথে সাথে শ্রমিকের মর্যাদাকেও স্বীকৃতি দেয়।
রাসূল সা: বলেছেন, সামাজিক রীতি অনুযায়ী মানুষের পদমর্যাদা তার পেশার ওপর নির্ভর করে না, বরং তার ব্যক্তিগত গুণাবলি এবং সামাজিক কল্যাণে তার অবদানের ওপর নির্ভর করে। ইসলামের দৃষ্টিতে একজন সৎ ও দক্ষ মুচি একজন অদক্ষ ও অসৎ সুলতান অপেক্ষা উত্তম।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে শ্রমজীবীদের সব সমস্যার সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে। মালিক বা সরকারের অসম বণ্টন নীতি পরিহার করে শ্রমিক হিসেবে সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের প্রাপ্য মজুরি তাদের পরিপূর্ণভাবে দিতে হবে। আজকের দিনে রাসূল সা: অনুসৃত আদর্শই শ্রমিকদের সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
রাসূল সা: বলেছেন, সাদা-কালো, ধনী-গরিব, প্রভু-ভৃত্য, শাসক-শাসিত, মালিক-শ্রমিক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। সাম্যের এ মূলনীতিকে মেনে চলতে পারলে  শ্রেষ্ঠত্বের কোনো লড়াই থাকে না এবং মানুষে মানুষে ভেদাভেদ উঠে গিয়ে সমাজ হতে পারে সুশৃঙ্খল, স্থিতিশীল ও শান্তিময়।
ইসলাম মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের যে নীতিমালা দিয়েছে উভয়েই যদি তা অনুসরণ করে তাহলে পৃথিবীতে বঞ্চিতদের আর্তনাদ শোনা যাবে না, দেখা দেবে না শ্রমিক অসন্তোষও।
লেখক : তৌহিদুল ইসলাম, ব্যাংকার
এসএমআর